Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০১ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতাল

শিশুমৃত্যুতে গাফিলতির অভিযোগ তৃণমূল নেতার

নিজস্ব সংবাদদাতা
ঝাড়গ্রাম ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০২:২০

ডায়েরিয়ায় অসুস্থ এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালের চিকিত্‌সক ও নার্সের বিরুদ্ধে চিকিত্‌সায় চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা শেখ সামসাদ আলি-র লিখিত অভিযোগ পেয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কারণ সামসাদবাবু খোদ শাসক দলের নেতা! তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের জামবনি ব্লকের পড়িহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান। সোমবার বিকেলে ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালে সামসাদবাবুর দু’বছরের শিশুপুত্র শেখ সাজ়িদের মৃত্যু হয়। ঝাড়গ্রাম স্বাস্থ্য জেলার তরফে তদন্ত কমিটি গড়ে গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জামবনির পড়িহাটি গ্রামের বাসিন্দা সামসাদবাবুর দাবি, শুক্রবার থেকে তাঁর দু’বছরের ছেলে শেখ সাজ়িদ-এর জ্বর ও পেটখারাপ হয়েছিল। প্রথমে ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সুচাঁদ কিস্কুর ব্যক্তিগত চেম্বারে সাজ়িদকে দেখানো হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রবিবার সকালে সুচাঁদবাবুর তত্ত্বাবধানেই শিশুটিকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু রবিবার ভর্তির দিন থেকেই সাজ়িদকে স্যালাইন দেওয়া হয় নি বলে অভিযোগ। সোমবার দুপুরে সাজ়িদের অবস্থা সঙ্কটজনক হয়ে ওঠে। কর্তব্যরত নার্সের কাছে ছুটে যান সামসাদবাবু। অভিযোগ, ওই নার্স দাবি করেন, শিশুটিকে স্যালাইন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয় নি। সামসাদবাবু জানান, শিশু বিশেষজ্ঞকে কল দেওয়ার জন্য নার্সকে বারংবার অনুরোধ করতে থাকেন তিনি। নার্স কোনও গুরুত্ব না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ অসুস্থ শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে ইমার্জেন্সিতে ছুটে যান তিনি। কিন্তু জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিত্‌সক জানিয়ে দেন, ওয়ার্ডে চিকিত্‌সাধীন কোনও রোগীকে এভাবে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার নিয়ম নেই। ফলে, অসুস্থ ছেলেকে ফের ওয়ার্ডে নিয়ে যান সামসাদবাবু। সন্ধ্যা পৌনে ছ’টা নাগাদ সামসাদবাবুর কোলেই নিথর হয়ে যায় ছোট্ট সাজ়িদ। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এরপর শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সুচাঁদ কিস্কুকে ‘কল’ দেন নার্স। সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ ওয়ার্ডে এসে সুচাঁদবাবু জানান শিশুটি আগেই মারা গিয়েছে।

এর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাজ়িদের পরিজনরা। সোমবার হাসপাতালের সুপার মলয় আদক ছুটিতে ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্বে ছিলেন হাসপাতালের চিকিত্‌সক প্রসূন ঘোষ। ভারপ্রাপ্ত সুপার প্রসূনবাবুকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান মৃত শিশুটির পরিজনেরা। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা ঝাড়গ্রামের পুরপ্রধান দুর্গেশ মল্লদেব, জামবনি ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি সমীর ধল। ভারপ্রাপ্ত সুপারকে লিখিত অভিযোগপত্র দেন সামসাদবাবু। ভারপ্রাপ্ত সুপার প্রসূন ঘোষ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেওয়ার পর রাত ৯ টা নাগাদ ঘেরাও-বিক্ষোভ ওঠে।

Advertisement

সামসাদবাবু বলেন, “সরকারিস্তরে হাসপাতালের পরিষেবার মান বাড়ানোর জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অথচ এক শ্রেণীর চিকিত্‌সক ও নার্সদের অমানবিকতা, গাফিলতি ও ফাঁকিবাজির জন্য সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা পাচ্ছেন না। দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেছি।” অভিযুক্ত চিকিত্‌সক ও নার্স অবশ্য কোনও কথা বলতে চান নি।

হাসপাতালের সুপার মলয় আদক মঙ্গলবার কাজে যোগ দেন। কী ভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, তা নিয়ে এ দিন ঝাড়গ্রামের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) স্বপন সরেনের সঙ্গে আলোচনা করেন মলয়বাবু। সোমবার শিশুটিকে কী পরিস্থিতিতে অভিভাবকেরা ওয়ার্ড থেকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখার জন্য সিসিটিভি-র ফুটেজ দেখা হয়। সুপার মলয় আদক বলেন, “শনিবার থেকে আমি ছুটিতে ছিলাম। আজই যোগ দিয়েছি। যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। অভিযোগের তদন্ত যাতে নিরপেক্ষভাবে করা হয়, সেজন্য সব রকমের পদক্ষেপ করা হচ্ছে।” ঝাড়গ্রামের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক স্বপন সরেন বলেন, “তদন্ত কমিটি গড়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


হাবরার বাণীপুরে শিশু স্বাস্থ্য প্রতিযোগিতা।
বিচারক ছিলেন চিকিত্‌সক সিদ্ধার্থ সেনগুপ্ত।—নিজস্ব চিত্র।



আরও পড়ুন

Advertisement