চুলের পরিচর্যায় নানা রকম তেল থাকলেও, এ দেশের নানা প্রান্তেই নারকেল তেল ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। নারকেলের পুষ্টিগুণের প্রায় সবটাই মেলে এতে। ফ্যাটি অ্যাসিড এবং খনিজে সমৃদ্ধ নারকেল তেল তাই চুল মসৃণ রাখতে, চুলের পরিচর্যায় ব্যবহার করা হয়।
আবার বাজারে রকমারি তেলের মধ্যে রয়েছে আমলকি তেলও। ভেষজ হিসাবে ব্যবহৃত আমলকি শুধু ফল হিসাবে খাওয়া হয় না, কেশচর্চাতেও বহু যুগ ধরে তা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভিটামিন ই, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর আমলকি তেল শুধু চুলের রুক্ষ ভাব দূর করে না, অকালপক্বতা দূর করতে এবং নতুন চুল গজাতেও এই তেল কাজ করে। আমলকির গুণে চুল হয় স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
অন্য দিকে, নারকেল তেলে মেলে ফ্যাটি অ্যাসিড, লরিক অ্যাসিড। তা ছাড়া, নারকেল তেল চুলের ময়েশ্চারাইজ়ার হিসাবে কাজ করে। চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতেও সহায়তা করে। নারকেল তেলে রয়েছে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান, যা মাথার ত্বকের ছোটখাটো সংক্রমণ দূর করতেও সাহায্য করে।
কারা কোনটি কেন ব্যবহার করবেন?
কম বয়সে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা, খুশকি, মাথার ত্বকে ছোটখাটো সংক্রমণ থাকলে আমলকি তেল ভাল। এই তেল মাসাজে মাথায় রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বৃদ্ধি হয়। ফলে চুলের ঘনত্ব বাড়ে তাড়াতাড়ি। আমলকিতে রয়েছে ট্যানিন এবং ক্যালশিয়াম। অতিরিক্ত তাপ থেকে চুলের ক্ষতি রুখে দিতে পারে এই উপাদানগুলি। তাই চুল ঝরে পড়া অনেকটাই কমে যায়। ফলে চুলের বাড়তি যত্নের দরকার হলে আমলকি তেল ভাল।
আমলকি, নারকেল তেল, কাঠবাদামের তেলের সঙ্গে ফুটিয়েও তেল তৈরি করা যায়। বাজারচলতি আমলকি তেলও কেনা যায়। নারকেল তেলের সঙ্গে আমলকির টুকরো আঁচ কমিয়ে গরম করে নিন। সেটিও মাথায় মাখতে পারেন।
অন্য দিকে, স্নানের আগে নিয়মিত মাখার জন্য নারকেল তেল ভাল। নারকেল তেলের ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন চুলের রুক্ষ ভাব দূর করতে সাহায্য করে। নিয়ম করে হালকা গরম নারকেল তেল মাসাজ করলে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। ফলে চুলের গোড়াও মজবুত হয়।