হোক না বর্ষা, হোক ইলিশের মরসুম, তা বলে কি চিংড়ির সঙ্গে আড়ি না কি! ভোজনরসিক বাঙালি ভাত খাবে, আর চিংড়ি পাতে পড়বে না দীর্ঘ দিন— তাও কি হয়? বাজারে এখনও ভাল মানের ইলিশ পকেটসই দামে মিলছে না। সুতরাং এই ক’টা দিন জমিয়ে খান চিংড়ি।

কিন্তু চিংড়ি মানেই কি কেবল মালাইকারি বা সরষে চিংড়ির বাড়বাড়ন্ত? মোটেই না। বরং এই রেসিপি জেনে বানিয়ে ফেলুন চিংড়ির কালিয়া, আর রসিক মহলে জুটুক প্রশংসা।

দেখে নিন, চিংড়ির কালিয়া বানানোর উপকরণ ও প্রণালী।

 উপকরণ 

চিংড়ি মাছ (মাঝারি বা বড়): ১০ থেকে ১২ টি

আলু: ২ টি (লম্বালম্বি কাটা)

কাঁচালঙ্কা: ২টি

লবঙ্গ: ২-৩টি

তেজপাতা: ১টি

পিঁয়াজ কুচি

আদা বাটা: ১ চা চামচ

টম্যাটো কুচি: ২টি

এলাচ: ২-৩টি

দারচিনি

হলুদগুঁড়ো: ২ চা চামচ

লাল লঙ্কার গুঁড়ো: স্বাদ অনুযায়ী

নুন: স্বাদ অনুযায়ী

চিনি: ১ চা চামচ

সরষের তেল

গরম মশলা গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ

লেবুর রস: ১ চা চামচ।

 

প্রণালী 

প্রথমে চিংড়ি মাছ ভাল করে ধুয়ে নিন। অল্প হলুদ, লেবুর রস ও অল্প নুন দিয়ে ম্যারিনেট করে রেখে দিন ১০ মিনিট। এ বার একটি কড়ায় তেল গরম করে তাতে আলুগুলো অল্প নুন-হলুদ দিয়ে ভেজে তুলে রাখুন। এর পর ম্যারিনেট করা চিংড়ি মাছ ভাল করে ভেজে তুলে রাখুন।

এ বার কড়ায় সরষের তেল গরম করে তাতে গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিন। পিঁয়াজ কুচি যোগ করুন। নাড়ুন তত ক্ষণই, যত ক্ষণ না পিঁয়াজ হালকা সোনালি রঙের হচ্ছে। এর পর এতে কাঁচা লঙ্কা কুচি ও আদা বাটা যোগ করে আবার নাড়তে থাকুন। এ বার এতে হলুদ গুঁড়ো, লাল লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে ভাল করে কষতে থাকুন। যাঁরা ঝাল খান না, তাঁরা লঙ্কা মেশাবেন না। মশলা যাতে পুড়ে না যায়, তার জন্য রান্নার মাঝে মাঝেই অল্প জলের ছিটে দিন। দু’মিনিট পর টম্যাটো কুচি দিয়ে আবার নাড়তে থাকুন। যত ক্ষণ না মশলা থেকে তেল বার হয়ে যাচ্ছে কষে যান। এ বার এতে আগে থেকে ভাজা আলু ও চিংড়ি মাছ দিয়ে দিন। অল্প নেড়ে প্রয়োজন মতো জল, নুন ও চিনি দিয়ে কড়া ঢাকা দিন। ঢিমে আঁচে রান্না করুন। ১০ মিনিট পর ঢাকা সরিয়ে দেখে নিন আলু সুসিদ্ধ হল কি না। আলু সিদ্ধ হলে ইচ্ছে মতো গ্রেভি রেখে অল্প গরম মশলা ছড়িয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন। পরিবেশন করার আগে অল্প ধনে পাতা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।