Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

গ্রামেও এখন জনপ্রিয় অনলাইন শপিং

সারাক্ষণ কী খুটুর খুটুর করিস বল তো? চোখ দু’টো এ বার যাবে কিন্তু! সাতসকালে মেয়েকে ল্যাপটপে মুখ গুঁজে থাকতে দেখে গজগজ করছিলেন বহরমপুরের শিপ্রা

সুজাউদ্দিন ও সুস্মিত হালদার
১০ জুন ২০১৬ ০২:৪১
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

সারাক্ষণ কী খুটুর খুটুর করিস বল তো? চোখ দু’টো এ বার যাবে কিন্তু!

সাতসকালে মেয়েকে ল্যাপটপে মুখ গুঁজে থাকতে দেখে গজগজ করছিলেন বহরমপুরের শিপ্রা পাল। মেয়েও দমবার পাত্র নয়। পাল্টা মাকে বলে বসল, ‘‘আমার চোখে কিস্যু হবে না। তবে তোমার চোখ জুড়িয়ে যাবে।’’

তারপর মা ও মেয়েতে প্রায় ঘণ্টা খানেক ধরে বাজার করলেন বৈঠকখানাতে বসেই। আজ্ঞে হ্যাঁ, গোটা জামাইষষ্ঠীর বাজার। শিপ্রাদেবী তো আহ্লাদে আটখানা। আর হবেন নাই বা কেন? শুধু একটা ক্লিকের অপেক্ষা। কত রকমের মডেল, রং, বাহার। দোকানদারের বিরক্তি নেই। কর্মীদের ক্লান্তি নেই। ভাঁজ ভাঙার চিন্তা নেই। সব দেখেশুনে তিনি মেয়েকে বলেছেন, ‘‘শোন, পুজোর বাজারটা এ ভাবেই সারব। কী দরকার ভিড়ে চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে বাজার করার!’’

Advertisement

প্রতি বছর জামাইষষ্ঠীতে জামাইয়ের জন্য পছন্দ করে জামা-প্যান্ট কেনেন চাপড়ার দত্ত দম্পতি। কৃষ্ণনগরে এসে দোকান ঘুরে ঘুরে যদিও বা একটা জামা পছন্দ হল সেটা আবার জামাইয়ের না-পসন্দ। একমাত্র জামাই। নামি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। কিন্তু শ্বশুরের পছন্দের সঙ্গে জামাইয়ের পছন্দ কিছুতেই মেলে না। জামাই চান হাল ফ্যাশনের পোশাক। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রকাশ দত্ত এ বার তাই বাজার সেরেছেন অন্তর্জালেই। জামাই খুশি। আর প্রকাশবাবু বলছেন, ‘‘ক্লিকের কেরামতি দেখলাম মশাই!’’

দত্তবাবু একা নন, ক্লিকের কেরামতিতে মজেছে গ্রাম থেকে শহর সক্কলেই। ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে একেবারে প্রত্যন্ত এলাকায়। শ্যামপুরের সমর বিশ্বাস কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন। স্ত্রী ও ছেলে থাকে গ্রামের বাড়িতে। জন্মদিনে ছেলের বায়না—একটা ম্যাগনেটিক স্লেট চাই-ই চাই। সমরবাবুও বলেছিলেন—তথাস্তু। আর হয়েছেও তাই। দিল্লিতে বসেই অন-লাইনে একটা ম্যাগনেটিক স্লেট বুক করেছিলেন তিনি। জন্মদিনের সকালে সেটা পৌঁছে গিয়েছে
ছেলের হাতে।

প্রতিদিন অন-লাইনে কেনাকাটা ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। জুতো থেকে জামা, ঘড়ি থেকে বেল্ট— সবই মিলছে সেই বিরাট আন্তর্জালের বাজারে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের একটা বড় অংশ দোকান, শপিং মলের ভিড় উপেক্ষা কররে বাজার সারছেন বাড়িতে বসেই। অতএব জামাইষষ্ঠী ও ইদের বাজারে এখন অন-লাইনেও জমাট ভিড়। করিমপুরের রাজীব শেখ যেমন এ বারের ইদের কেনাকাটা করেছেন বাড়িতে বসেই। রাজীববাবু বলছেন, ‘‘বাজার যদি বাড়িতে চলে আসে, তাহলে আমি আর বাজার গিয়ে কী করব?’’ তিনি ইতিমধ্যেই নিজের জন্য একটা মোবাইল, শার্ট-প্যান্ট কিনে ফেলেছেন। ভাইঝির জন্য ‘বুক’ করেছেন চুড়িদার। রাজীব বলছেন, ‘‘মাকেও কয়েকটি শাড়ি দেখিয়েছি। পছন্দ হয়ে গেলেই বুক করে দেব।’’

একই ভাবে অন-লাইনে ইদের নতুন পোশাক ‘বুক’ করেছেন ডোমকলের নাসির মণ্ডল। এর আগেও তিনি একাধিক বার এ ভাবেই বাজার করেছেন। তৌসিফ বলেন, ‘‘আমি তো বটেই, আমার বোনও এখন অন-লাইন ছাড়া অন্যত্র বাজার করতে চায় না।’’ অনলাইনের ক্রেতারা জানাচ্ছেন, আন্তর্জালে বাজার করার অনেক সুবিধা রয়েছে। সেখানে নিজের পছন্দ মতো জিনিস বেছে নেওয়া যায়। কেউ কিছু নিতে চাপ দেয় না বা বাধ্য করে না। তাছাড়া গাঁ-গঞ্জের দোকানে দোকানে কিন্তু এত ‘আইটেম’ থাকে না। আবার কোনও জিনিস কেনার পরে অসুবিধা হলে বা পছন্দ না হলে টাকা ফেরত ও জিনিস পাল্টে নিতেও কোনও অসুবিধা হয় না।

ডোমকলের অম্বরপুর, কুপিলা, শাহাদিয়াড়ের মতো অজ গাঁয়েও এখন অনলাইনে কেনাকাটার হিড়িক দেখা যাচ্ছে। কুপিলার মাচায় পা ঝুলিয়ে হাসতে হাসতে এক যুবক বলছিলেন, ‘‘স্মার্টফোনের মধ্যে যে এত বড় বাজার আছে কে জানত!’’ অম্বরপুরের সোয়াইব আনসারির কথায়, ‘‘দিন কয়েক আগে অনলাইনে দেখলাম একটা টি-শার্ট কিনলে আর একটা ফ্রি। দুই বন্ধু মিলে কিনে নিলাম।’’

তবে অনলাইনের এই দাপাদাপিতেও বাজারে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি বলেই দাবি ব্যবসায়ীদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, অন-লাইনে বেচাকেনা এমন পর্যায়ে পৌঁছয়নি যে, তার জন্য দোকানে কেনাকাটায় প্রভাব পড়বে। কৃষ্ণনগরের এক বস্ত্র ব্যবসায়ী অসীম সাহা বলেন, ‘‘অন-লাইনে কে‌নাকাটা এখনও একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাছাড়া এখনও ঘরে বসে কেনাকাটা করার থেকে বাজারে গিয়ে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করার লোকের সংখ্যা অনেক বেশি।’’

কিন্তু ওয়াইফাই-এর সৌজন্যে জেন ওয়াইও ছুটছে। সেই সঙ্গে বাজারও।



Tags:
Something isn't right! Please refresh.

Advertisement