অন্যান্য বিভিন্ন জিনিসের সঙ্গে, বাচ্চার খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে অধিকাংশ বাবা-মা'ই চিন্তিত থাকেন। ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সের বাচ্চাদের ক্রমবর্ধমান বিকাশের জন্য সবথেকে বেশি পুষ্টিগুণের প্রয়োজন হয়। আর প্রত্যেক বাবা-মায়েরাই নিশ্চিত করতে চান যে, এই সময়ে তাঁদের সন্তান ঠিকমতো পুষ্টি পায়। যা পরবর্তী সময়ে বাচ্চার শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

তবে যাই হোক না কেন, বাচ্চারা কতটা পরিমাণ খাচ্ছে, তার উপরেই কিন্তু শুধুমাত্র পুষ্টি নির্ভর করে না। পাশাপাশি কোনও বাচ্চার সামগ্রিক বিকাশ নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের বিষয়ের উপরে। সুতরাং যথেষ্ট খাওয়াই কিন্তু আপনার বাচ্চার বিকাশের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।

বয়ঃসন্ধিকালে যে ধরনের পুষ্টির প্রয়োজন হয় -

'পুষ্টি' বলতে আমরা যা বুঝতে পারি, তার তুলনায় শব্দটির অর্থ কিন্তু অনেক বেশি বিস্তৃত। এটি আমরা যে পরিমাণ খাওয়ার খাই, তার উপরেই শুধুমাত্র নির্ভর করে না। সেই সঙ্গে আমাদের শরীর কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সেই পুষ্টিগুণকে ব্যবহার করছে, তার উপরেও নির্ভর করে।

৮ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে, পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেন না এই সময়ে বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক, মানসিক এবং হরমোনের পরিবর্তন হয়। এই সময়ে বাচ্চারা প্রাপ্তবয়স্ক উচ্চতার ২০ শতাংশ এবং প্রাপ্তবয়স্ক ওজনের ২৫ শতাংশ লাভ করে[1]। সুতরাং, এই সময়ে বাচ্চারা যাতে পর্যাপ্ত পুষ্টি পায়, তার দিকে অবশ্যই নজর দেওয়া উচিৎ। কেন না এর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ভবিষ্যতের সুস্থ এবং সবল থাকার রহস্য।

বাচ্চাদের বেড়ে ওঠার জন্য দরকার বিভিন্ন ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস যেমন কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাট, যা শরীরের জ্বালানি হিসেবে প্রয়োজন হয়। সেই সঙ্গে আয়রণ, ক্যালসিয়াম, এবং ভিটামিনের মতো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টসেরও প্রয়োজন হয় বিশেষ কিছু কার্যকারিতার জন্য।

পুষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল, শরীর কীভাবে সেই পুষ্টিকে বিকাশের কাজে ব্যবহার করছে। আর এখানেই আসে জৈব পুষ্টিগুণ এবং জৈব শোষণ ক্ষমতা।

জৈব পুষ্টিগুণ এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

জৈব পুষ্টিগুণ হল পুষ্টির সেই অংশ, যা শরীর কোনও খাদ্য থেকে শোষণ করতে সক্ষম হয়। পুষ্টির ক্ষেত্রে, মাইক্রো এবং ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টসের প্রতি মিলিগ্রাম, যা শরীরে প্রবেশ করে, তার সমস্তটা কিন্তু শরীরে বৃদ্ধি বা বিকাশের কাজে লাগে না[2]। এটি নির্ভর করে শরীর কতটা ভাল ভাবে সেই পুষ্টি শোষণ করতে পারছে, তার উপরে[3]

যেমন ধরুন, বয়ঃসন্ধিকালে হাড়ের বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। অথচ এই সময়ে আপনি আপনার বাচ্চাকে পর্যাপ্ত উচ্চ ক্যালসিয়াম যুক্ত খাদ্য দিলেও, আপনার বাচ্চা হয়তো সেই খাদ্যের পূর্ণ উপকারিতা নাও পেতে পারে, খাদ্যের পর্যাপ্ত জৈবগুণ ছাড়া।

বিভিন্ন খাদ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাত্রায় জৈবগুণ থাকে। আপনি কি কোনও বাবা-মায়ের এমন অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে তাঁরা বলছেন সঠিক ডায়েটে থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সন্তানের উচ্চতা এবং ওজন ঠিকমতো বৃদ্ধি পাচ্ছে না? এই সমস্ত ক্ষেত্রে দায়ী হল অকার্যকর পুষ্টির শোষণ[4]

তাই যখন বাচ্চাদের বৃদ্ধি কথা ভাববেন, তখন শুধুমাত্র পুষ্টিই নয়, শরীরের শোষণ ক্ষমতার কথাও মাথায় উচিৎ। আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রায়, অত্যাধিক মাত্রায় ফাস্ট ফুড খাওয়া, অতিরিক্ত চাপ, এবং দ্রুত এগিয়ে চলা সময়সূচি ইত্যাদি, খাদ্য থেকে সঠিক পুষ্টিগুণ শোষণের অনুমতি দেয় না। তাই প্রতিনিয়ত সঠিক ডায়েটও সবসময় কার্যকরী হয়ে ওঠে না বৃদ্ধির জন্য।

এবার বাচ্চার বৃদ্ধি হোক সবথেকে ভালভাবে

যখন নিয়মিত ডায়েটেও বাচ্চাদের শরীর সঠিক পুষ্টিগুণ শোষণ করতে পারে না, তখন জৈবগুণ যুক্ত খাদ্য বাচ্চার বৃদ্ধির জন্য বেশ সহায়ক হতে পারে। হরলিক্সের মতো স্বাস্থ্যকর পানীয় এই ক্ষেত্রে বেশ সাহায্য করে। কেন না এর মধ্যে রয়েছে সমস্ত জৈব পুষ্টিগুণ যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত^।

                                                                                                                                

[1] //apps.searo.who.int/pds_docs/B0239.pdf

[2] https://www.eufic.org/en/en/food-today/article/nutrient-bioavailability-getting-the-most-out-of-food

[3] //scitechconnect.elsevier.com/bioavailability-bioaccessibility-bioactivity-food-components/

[4] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4325021/

ডিসক্লেইমার

এই নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণভাবে লেখকের নিজস্ব মতামত এবং শিক্ষামূলক স্বার্থে প্রকাশিত। শরীর ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে উপদেশের জন্য ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

হরলিক্স একটি পুষ্টিকর পানীয় যা রোজকার ডায়েটেরই একটি অঙ্গ।

^১৯৯০-২০০০-এ [Nutr 2006:22; S15-25] পরীক্ষার ভিত্তিতে এই দাবি করা হচ্ছে।