• পারমিতা সাহা ও ঈপ্সিতা বসু
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

দোসর যখন স্টোল

শীতের কাঁপুনি নেই, অথচ বসন্তের শিরশিরে হাওয়ার আনাগোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিয়েবাড়ি থেকে অফিস কিংবা পার্টির পোশাক সম্পূর্ণ হোক স্টোলের আরামবিলাসে

Model

শীতের বিদায়ে স্টাইলিশ কোট, শাল, পঞ্চো, জ্যাকেটের পালাও শেষ। আপাতত এক বছরের জন্য তারা ওয়ার্ড্রোবের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে। তবে ‘ঠান্ডা’ মেজাজটা এখনও পুরোপুরি যায়নি। রাতের দিকে হালকা শিরশিরানি তো রয়েছেই। এ সময়ে আপনার আউটফিটের যোগ্য দোসর হতে পারে স্টাইলিশ একটি স্টোল। তার ড্রেপিংয়ের রকমফেরে বদলে যাবে আপনার সাজ এবং লুক। 

 

ড্রেপিংয়ের ধরন

শাড়ির সঙ্গে: সাধারণ একটা শাড়িও নজরকাড়া হয়ে উঠতে পারে গর্জাস স্টোলের দৌলতে। যদি স্টোলটির সারা গায়ে থাকে সুতোর সূক্ষ্ম কাজের বিস্তার, তা হলে শাড়িটি একরঙা হলেই দেখতে বেশি ভাল লাগবে। সরু প্লিট করে শাড়িটি সুন্দর ভাবে পরে নিন। ব্লাউজ়ের রং যেন কনট্রাস্ট না হয়। অর্থাৎ খেয়াল রাখতে হবে, স্টোল ছাপিয়ে শাড়ি বা ব্লাউজ়ের রং যেন বেশি প্রকট না হয়ে ওঠে। বাঁ কোমরে স্টোলটি গুঁজে পিছন দিক থেকে ঘুরিয়ে এনে সামনে আঁচলের মতো ফেলুন। এখানে পুরো কালো স্টোলটি জুড়ে রয়েছে অনবদ্য আড়ি কাজ। বেজ রঙের সিল্কের সুতোর কাজে কাশ্মীরি আভিজাত্য। 

স্কার্ট বা কুর্তির সঙ্গে: অনায়াসেই স্টোল টিম আপ করা যায় স্কার্ট বা কুর্তির সঙ্গে। এ ক্ষেত্রেও দেখে নিতে হবে, স্কার্ট বা কুর্তি কোনওটিতেই যেন খুব বেশি রং বা ঘন প্রিন্ট না থাকে। এখানে কাঁধের উপর থেকে স্টোলটি ফেলে রাখা হয়েছে। কোমরে বেল্ট লুককে আরও স্মার্ট করে তুলেছে। হলুদ কুর্তির সঙ্গে কালো র‌্যাপ স্কার্ট, তার উপরে মেরুন স্টোল। এ রকম একটি সুন্দর স্টোল আপনি বিয়েবাড়িতে পরতে পারেন কুর্তি, চুড়িদার... যে কোনও কিছুর সঙ্গেই। কাঁধের উপরে ফেলে রেখে সুন্দর শেপ দিতে পারেন কোমরের বেল্টে। পশমিনার উপরে সূক্ষ্ম কারুকাজ গোটা স্টোল জুড়ে। তাই ড্রেপিংয়েও খুব বেশি এক্সপেরিমেন্ট করা হয়নি। প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে স্টোলের সৌন্দর্যকে।  

ড্রেসের সঙ্গে: শর্ট ড্রেসের সঙ্গে স্টোলের বন্ধুত্ব কিন্তু হতেই পারে। সচরাচর এমনটা অনেকে ট্রাই করেন না। তবে নিজের স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে নতুন কিছু তো করাই যায়। স্টোলের এক দিকের দু’টি প্রান্ত নিয়ে গলার পিছনে শক্ত করে একটি নট বাঁধুন। এ ভাবে স্টোলটি পরলে হল্টারনেক ড্রেসের মতো লুক আসবে। এ ক্ষেত্রেও ড্রেসটি একরঙা হওয়া বাঞ্ছনীয়, কারণ স্টোলটিতে ঘন কানি কাজ রয়েছে এবং বর্ডারে জরি। কোমরে বেল্ট পরলে লুকটা বেশ পরিপাটি হবে।

লং ড্রেস বা কুর্তির সঙ্গে: এ ক্ষেত্রে স্টোলটি ওড়নার মতোই এক দিকে নেওয়া যেতে পারে। সলিড কালারের কুর্তি হওয়ায় এখানে রয়েছে গলায় ভারী হার। পিয়োর সিল্কের স্টোল এক কাঁধে ছেড়ে রাখা হয়েছে। তবে এ রকম পোশাকের সঙ্গে ভারী গয়না মানানসই।   

যত্নআত্তি

• উলেন স্টোল বাড়িতে না ধুয়ে ড্রাই ওয়াশ করাই ভাল। ঘন ঘন ধোবেন না। এতে ফ্যাব্রিক কোমলতা হারায়। তবে সারা বছরের জন্য তুলে রাখার আগে ড্রাই ওয়াশ করান।

• স্টোল বাড়িতে ধুতে হলে ঠান্ডা জলে গ্লিসারিন মিশিয়ে ডুবিয়ে রাখুন। এতে রোঁয়া উঠবে না, উজ্জ্বল ভাবও বজায় থাকবে। 

• ফ্লানেলের স্টোল ধোয়ার আগে ক’ফোঁটা ভিনিগারে ভিজিয়ে রাখুন, বাড়তি রং শুষে নেবে।  

• বেশিক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখবেন না। কাচার পরে তোয়ালে মুড়ে নিংড়ে নিন। ভিজে অবস্থায় উলের স্টোল ভারী হয় ও ঝুলিয়ে রাখলে শেপ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ছায়ায় শুকোনো জরুরি।  

• কারুকাজ করা স্টোল পালিশ করালেই ভাল।

• পশমিনা স্টোলের আয়ু বাড়াতে হ্যাঙারে ঝুলিয়ে রাখবেন। 

• সিল্কের স্টোল কাপড়ের ভাঁজে নয়, আলাদা করে নরম কাপড়ের উপরে রাখা দরকার।   

• ভাঁজ নষ্ট হলে সরাসরি স্টোলের উপরে আয়রন করবেন না। সুতির কাপড় চাপা দিয়ে আয়রন করুন।

• আলমারিতে রাখার আগে ন্যাপথালিন দিয়ে রাখুন। টিসু পেপারে মুড়ে রাখলে আরও ভাল। স্টোলে পারফিউম লেগে থাকলে অবশ্যই পরিষ্কার করে রাখবেন, না হলে অংশটিতে দাগ পড়ে যাবে।

এই বসন্তের এলোমেলো হাওয়ায় গায়ে হালকা স্টোল চড়িয়ে নিলে কিছু সাজ আর কাজ... দুটোই মিটবে।

মডেল: হিয়া মুখোপাধ্যায়, তৃষিতা ঘোষাল

ছবি: জয়দীপ মণ্ডল

মেকআপ: সন্দীপ নিয়োগী

হেয়ার: অবন্তিকা দাশগুপ্ত 

স্টাইলিং: রুদ্র সাহা

ড্রেপিং: ডলি জৈন

স্টোল: নুর শলস, নুর-দিন-শাহ; পোশাক: শুচিস্মিতা দাশগুপ্ত (শাড়ি)

সিল্কের স্টোল, জুয়েলারি ও কামিজ: নীরোশা, পূর্ণ দাস রোড

লোকেশন: দ্য ললিত গ্রেট ইস্টার্ন, কলকাতা

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
আরও খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন