পুরসভা নির্বাচনের ফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় অসমের রাজনৈতিক দলগুলি। আগামী কাল শিলচর, হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জ-সহ রাজ্যের ২১টি জেলার ৩২টি পুর বোর্ড ও ৪২টি নগর কমিটির ভোটগণনা। ভোট হয়েছিল ৯ ফেব্রুয়ারি।

পুরসভার নির্বাচনকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ‘সেমি ফাইনাল’ হিসেবে দেখছেন রাজ্যের রাজনৈতিক নেতারা। লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে কংগ্রেস ১৪টির মধ্যে ৩টি আসন পেয়েছিল। বিজেপি জিতেছিল ৭টি আসন। কিন্তু, অসমে পুরভোটের মুখে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারে উত্তর-পূর্বের বাসিন্দাদের ‘অভিবাসী’ বলে উল্লেখ করায় বিজেপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। অন্য দিকে, তরুণ গগৈ মন্ত্রিসভা থেকে সম্প্রতি বাদ পড়েন বরাক উপত্যকার জনপ্রিয় নেতা গৌতম রায়। তা নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে বরাকে। ওই দলে চলছে অন্তর্কলহও। কংগ্রেসের একাংশ নেতা বলছেন, এ সবের প্রভাব পড়তে পারে ভোটের ফলাফলে। অসমের প্রধান বিরোধী দল এআইইউডিএফ এ বার প্রথম পুর-নির্বাচনে লড়েছে।

এ দিকে, পুরসভা নির্বাচনের দিন পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগে হাইলাকান্দির জেলাশাসকের অপসারণ দাবি করেছে বিজেপি। দলের জেলা কমিটির সদস্যরা আজ সকাল ১১টা থেকে এ নিয়ে দু’ঘণ্টার ধর্নায় বসেন। পরে রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি পাঠানো হয়।

সোমবার পুর-ভোট শেষ হওয়ার পর ব্যালট-বাক্স বদলের অভিযোগ তোলে বিজেপি। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেল ছোড়ে। ভিড় সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তাতে ৯ জন আহত হন। ঘটনায় জখম এক স্কুলছাত্র হাসপাতালে ভর্তি। ওই ঘটনার জেরে জেলাশাসক শামসের সিংহকে বদলির দাবি তোলে বিজেপি। দলের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজদীপ রায় বলেন, “জেলাশাসক কংগ্রেসের তাবেদারি করছেন।

বিনা কারণে তিনি লাঠিচার্জের নির্দেশ দেন।”

বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে জেলাশাসক বলেন, “সব জায়গায় হিসেব দেওয়া হয়েছে। ভোটের তিন দিন পর আচমকা এই অভিযোগ কেন উঠছে?” পুলিশি লাঠিচার্জ নিয়ে তিনি বলেছেন, “পরিকল্পিত ভাবে ব্যালট-বাক্স বদলের গুজব ছড়ানো হয়েছিল। ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। লাঠি চালিয়ে ভিড় হঠানো ছাড়া উপায় ছিল না।” জেলাশাসক জানিয়েছেন, ওই ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।