মাওবাদী নেত্রী নির্মলা বিশ্বাস ওরফে বেলাদিকে জেরা করে তার বোন-ভগ্নিপতির হদিস পেতে চায় এনআইএ, পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি অফিসাররা।

গত শুক্রবার শিলচরে এসে গোয়েন্দাদের একটি দল তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বোন বা ভগ্নিপতি সম্পর্কে একেবারেই মুখ খুলতে চাননি নির্মলা। গোয়েন্দাদের প্রশ্নে চুপ ছিলেন ধৃত আমিরউদ্দিন আহমেদও। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জেরার মুখে এক সময় তাঁরা ভেঙে পড়বেন। সব কথা তখন বলে দেবেন। সে জন্য তাঁদের কলকাতায় নিয়ে যেতে চায় পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি।

কট্টর মাওবাদী নির্মলা ও আমির ২০ অগস্ট কাছাড় জেলার কাটিগড়ায় ধরা পড়েন। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছিল চা জনগোষ্ঠীর তিন যুবককে। তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ২৮ অগস্ট ধরা হয় আরও তিন জনকে। আট জনকে কখনও একসঙ্গে, কখনও আলাদা আলাদা জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দা অফিসাররা। তবে নির্মলা ও তার পরিচিতজনদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহেই বেশি জোর দেন। সে জায়গায় তাঁরা অনেকটাই সফল বলে কাছাড়ের পুলিশ সুপার রজবীর সিংহ দাবি করেন। তাই কথায়, ‘‘মাওবাদী নেত্রীর সম্পর্কে সংগৃহীত তথ্য ওই সংস্থার তদন্তকারীরা আপাতত চলে গিয়েছেন। শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েক দিনের মধ্যে তাঁকে নিতে ফিরে আসবেন।’’

পুলিশ সুপার জানান, নির্মলা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড। তাঁর বোন শ্রদ্ধাও মাওবাদী নেত্রী। ভগ্নীপতি গৌর চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদীদের প্রথম মুখপাত্র। নির্মলার মতো তাঁদেরও পুলিশ অনেক দিন ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, শ্রদ্ধাও তাঁর দিদির মতো অসমেই কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন।

এ দিকে, তদন্তকারী দলের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ায় ধৃত আট মাওবাদীকে আদালতের নির্দেশে জেল হেফাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।