প্রায় দু’শো বছর আগে মার্কিন ব্যাপটিস্ট মিশনারি মাইল্স ব্রনসন পা রাখেন অসমে। সেখান থেকে মায়ানমার ও দক্ষিণ চিনে যাওয়ার কথা ছিল। উজানি অসমের প্রেমে পড়ে সেখানেই আটকে যান ব্রনসন। শেখেন স্থানীয় ভাষা। সেই ব্রনসন সাহেবের লেখা সাত হাজার পাতার অমূল্য চিঠি ও লেখার খসড়া এ বার আনুষ্ঠানিক ভাবে অসমে নিয়ে এলেন আমেরিকার রোড আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের এমেরিটাস অধ্যাপক দিলীপ দত্ত।

দিলীপবাবু জানান, উনিশ শতকের সাহিত্য-সমাজ-সংস্কৃতির ইতিহাস ওই সাত হাজার পাতায় ধরা আছে। ব্রনসনের প্রপৌত্র ওই সব নথিপত্র ‘অ্যান্ডোভার নিউটন থিওলজিক্যাল সোসাইটি’কে দান করেন। সেখান থেকেই ছ’টি মাইক্রোফিল্মে সাত হাজার পাতার ছবি সংগ্রহ করেন দিলীপবাবু। ব্রনসনের লেখায়, অসমের ভূগোল ও ভাষা ছাড়াও ধরা আছে সিপাহী বিদ্রোহের অনেক অকথিত কাহিনি। ‘অসম জাতীয় প্রকাশ’ সংগঠনের হাতে তিনি তুলে দিয়েছেন এই সম্পদ।

১৮৩৭ থেকে ১৮৮১ সাল অবধি অসমে কাটান ব্রনসন। অদম্য উৎসাহ, চেষ্টা ও ভালবাসায় অসমিয়া, গারো, নোকতে, সিংফো, খামটি ও ওয়াংচে ভাষা শেখেন তিনি। ১৮৬৭ সালে প্রকাশিত ইংরাজি, অসমিয়া ও নাগা ভাষায় প্রথম অভিধানও ব্রনসনের কীর্তি।’’ ১৮৪০ সালে নোকতে উপজাতির ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখাতে একটি স্কুল তৈরি করেন তিনি। চাষ ও নুন তৈরিতে ব্যস্ত পরিবারগুলিতে ছেলেদের পড়তে পাঠানোর সময় ছিল না। দমেননি ব্রনসন। স্ত্রী, বোন ও কন্যাকে নিয়েই তিনি স্কুল চালিয়ে যান। ধীরে ধীরে সাফল্য আসে। গ্রামের ছেলেরা স্কুলে এসে ইংরেজি পড়তে শেখে। সেই লড়াইয়ের গল্পও আছে চিঠিগুলিতে।

ব্রনসন সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছিলেন বুড়ি দিহিং নদীর ধারে, জয়পুর এলাকায়। চা ও কাঠের ব্যবসার জন্য অসম ও সাবেক বর্মার মধ্যবর্তী ওই অংশ ইংরেজদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নগাঁও জেলায় ব্রনসন অনাথদের জন্য একটি স্কুল তৈরি করেন। অসমিয়া, গারো, সিংফো ভাষায় একাধিক বইও লেখেন তিনি।