শতবর্ষ প্রাচীন করিমগঞ্জ রেল জংশন ছোট হয়ে যাচ্ছে। স্টিম ইঞ্জিন চালিত মিটারগেজ ট্রেন চলার সময় করিমগঞ্জ স্টেশনে ছ’টি লাইন ছিল। কিন্তু বর্তমানে ছ’টির পরিবর্তে তিনটি লাইন বসেছে এখানে। শহরের ভিতরে থাকায় করিমগঞ্জ স্টেশনে আর কোনও দূরপাল্লার ট্রেন ঢুকবে না বলেও রেলের বিভাগ সূত্রে খবর। স্টেশনের গুরুত্ব কমায় করিমগঞ্জবাসী ক্ষুব্ধ। স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, ইংরেজ আমলে বরাক উপত্যকার সর্বপ্রথম স্টেশনগুলির মধ্যে করিমগঞ্জ অন্যতম। করিমগঞ্জের সঙ্গে মহিশাষণ দিয়ে বাংলাদেশের যোগাযোগ ছিল। এমনকী বানিজ্যকেন্দ্র হিসেবেও করিমগঞ্জের যথেষ্ট সুনাম ছিল।

বর্তমানে বরাক উপত্যকায় ব্রডগেজ ট্রেন চালু হয়েছে। সব পরিকল্পনামাফিক এগোলে এপ্রিল মাসেই চালু হবে করিমগঞ্জ-গুয়াহাটি ও করিমগঞ্জ-আগরতলা ব্রডগেজ ট্রেন। কিন্তু করিমগঞ্জ শহরতলির বাইপাসে নিউ করিমগঞ্জ স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল বিভাগ। উত্তর-পূর্ব রেল সূত্রে খবর নিউ করিমগঞ্জ স্টেশন গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকারকে টাকাও দিয়ে দিয়েছে রেল। কারণ, জমি কেনার দায়িত্ব রাজ্যের। করিমগঞ্জবাসীর মতে, বাইপাসে স্টেশন হলে শহর বড় হবে ঠিকই, কিন্তু শহরের জনগণকে সমস্যায় পড়তে হবে। গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে ঐতিহ্যের স্টেশন। যাত্রীদের নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও থাকবে।

জংশন স্টেশন ছোট হয়ে যাওয়ায় প্রাক্তন সাংসদ ললিতমোহন শুক্লবৈদ্যকেই দায়ী করছেন অনেকে।