স্বাধীনতা দিবসের পরেই লোকসভা ভোটের দামামা বাজিয়ে রাজ্যওয়াড়ি সফরে নামতে চলেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী।

কংগ্রেস সূত্রের মতে, লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন রাহুল। দলের সংগঠনের দায়িত্বে থাকা অশোক গহলৌতকে তিনি দেশের সব নির্বাচনী কেন্দ্র ধরে পর্যালোচনা করতে বলেছেন। তার পরেই গহলৌত সব রাজ্যের কংগ্রেস নেতৃত্বকে বার্তা পাঠান, ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচনী কেন্দ্র ধরে রিপোর্ট পাঠাতে হবে দিল্লিতে। তার পর এ মাসের শেষে রাহুল নিজে বৈঠক করবেন সব রাজ্যের নেতাদের সঙ্গে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই পরের মাসে রাজ্যওয়াড়ি সফর শুরু করবেন রাহুল। তাঁর এই সফরে উত্তরপ্রদেশ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

তার কারণও রয়েছে। নরেন্দ্র মোদী শুধু চলতি মাসেই উত্তরপ্রদেশে তিন বার গিয়েছেন। এ মাসেই আরও এক বার সে রাজ্যে যাওয়ার কথা তাঁর। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ তো ইতিমধ্যেই সব রাজ্যে সফরের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। চলতি মাসে মুম্বই সফরে তাঁর গোটা দেশের প্রথম পর্যায়ের সফর শেষ হবে। বিভিন্ন রাজ্যের কংগ্রেস নেতাদের মনে প্রশ্ন ছিল, লোকসভা ভোটের জন্য কংগ্রেস নেতৃত্ব কবে থেকে প্রচারে নামবেন? এআইসিসি-র এক নেতা বলেন, ‘‘কংগ্রেসের কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ রাজ্যে রাজ্যে সংগঠনকে আরও মজবুত করা। রাহুল এখনও রাজ্য সফর করছেন। গুজরাত এবং রাজস্থানেও যাবেন শিগগিরই। কিন্তু এগুলি মূলত দলকে শক্ত করতে। এর পরে তিনি ভোটযুদ্ধে ঝাঁপাবেন।’’

কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কমল নাথ বলেন, ‘‘আদর্শগত ভাবে তো বটেই, বিজেপির সংগঠনের সঙ্গেও লড়তে হবে আমাদের। ফলে লোকসভা ভোটের জন্য ঝাঁপানোর আগে সংগঠনকে মজবুত করাই আমাদের লক্ষ্য। সে কারণে আমরা আপাতত বুথ স্তরকে আরও শক্তিশালী করছি। তার পর ভোটের জন্য তৈরি হব। এমনকি মোদী ভোট এগিয়ে আনলেও আমরা প্রস্তুত।’’ রাজ্য নেতাদের কাছে গহলৌত জানতে চেয়েছেন, প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রে দলের শক্তি কতটা? বুথ স্তরে কমিটি কতটা তৈরি হয়েছে? দলের দুর্বলতাই বা কী? সেই কেন্দ্রে ভোটারদের চরিত্র কেমন? দল কোথায় নিজেদের ভোট বাড়াতে পারে?

এই সব প্রশ্নের উত্তর সমেত সবিস্তার রিপোর্ট এ মাসের মধ্যে নিজের টেবিলে চান রাহুল। তার ভিত্তিতে তৈরি হবে রাজ্যওয়াড়ি কৌশল।
রাহুল নিজেই রাজ্য নেতাদের ডেকে বৈঠক করবেন। প্রয়োজনে কোনও রাজ্যে গিয়েও বৈঠক করতে পারেন। সেই সঙ্গে হবে জনসভাও। কংগ্রেস নেতাদের মতে, গুজরাত ও কর্নাটক ভোটে রাহুল যেমন আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়েছিলেন, আগামী লোকসভা ভোটে তার থেকেও বেশি আক্রমণাত্মক হবেন তিনি। তবে ভোটে জেতাতে দরকার দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করা। সভাপতি হয়ে সেই কাজটিই গত কয়েক মাস ধরে করছেন তিনি। যদিও বিজেপি নেতাদের দাবি, রাহুল যত দিনে ভোটযুদ্ধে নামবেন, তত দিনে বিজেপি অনেক এগিয়ে যাবে।