বল্লভগড়ের কিশোর জুনেইদ খানকে হত্যার ঘটনায় বুধবার আরও চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল হরিয়ানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে দিল্লি সরকারের এক কর্মচারী। বয়স ৫০। বাকি তিন ধৃত বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে। তাদের বয়স ২৪ থেকে ৩০-এর মধ্যে। চার জনেই হরিয়ানার হোডাল এলাকার বাসিন্দা। এর আগে এই ঘটনায় এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সন্দেহভাজনদের তালিকায় রয়েছে দিল্লি সরকারের আরও এক ফুড ইনস্পেক্টর। তার খোঁজ চলছে।

গত সপ্তাহে ব্যাগে গোমাংস নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এই সন্দেহে চলন্ত ট্রেনে এক দল দুষ্কৃতী ছুরি মেরে খুন করে হরিয়ানার বল্লভগড়ের খান্ডওয়ালি গ্রামের বাসিন্দা জুনেইদকে। জখম হয় জুনেইদের দুই ভাই। এ দিন দিল্লিতে এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নায়ডু। তিনি বলেন, ‘‘এমন ঘটনা নৃশংস, বর্বর। এই ধরনের ঘটনা কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না। সমস্ত হামলাকারীদের খুঁজে বের তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

আরও পড়ুন: গো-বধের ধুয়ো তুলে গিরিডির গ্রামে হামলা

গোটা দেশ জুড়ে গোরক্ষকদের তাণ্ডবে এমনিতেই অস্বস্তিতে নরেন্দ্র  মোদী সরকার। বেঙ্কাইয়া এ দিন জুনেইদ হত্যার নিন্দা করলেও নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে ঝাড়খণ্ডের গিরিডির গোরক্ষকরা। গত কাল রাতে গিরিডি জেলার দেওরি থানার বেরিয়া-হাতিটাঁড় গ্রামে গোরক্ষকদের মারে গুরুতর জখম হয়েছেন মহম্মদ উসমান আনসারি।

জুনেইদ-হত্যার ক্ষোভ ছড়িয়েছে খান্ডওয়ালিতে। মোদী সরকারের সমালোচনায় মুখর বিরোধীরা। নিন্দার ঝড় উঠেছে সমাজের বিভিন্ন মহলে। এর মধ্যেই আবার ঘটে গিয়েছে গিরিডির ঘটনা। এই সব অস্বস্তি কাটাতে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার বার্তা দিতেই এ দিন নায়ডু আসরে নামলেন বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারীরা। নায়ডু বলেছেন, ‘‘আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।’’