বিধানসভা কক্ষে পাওয়া পাউডার আসলে ছিল মারাত্মক বিস্ফোরক। শুক্রবারই সে কথা জানা গিয়েছিল ফরেন্সিক পরীক্ষায়। তার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই শনিবার সামনে এল, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর এক গাফিলতি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিধানসভার ভিতর লাগানো ১০০টির মধ্যে ৯৪টি সিসিটিভি ক্যামেরাই নাকি কোনও কাজ করে না! তবে, সব বিতর্কের মধ্যেই চলতি বাজেট অধিবেশনে বিধায়কদের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিধানসভার সুরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজা হয়েছে।

বিধানসভার ভিতর উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় এ দিন থেকেই তদন্ত শুরু করল জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ। শুক্রবার রাতেই লখনউ পৌঁছয় গোয়েন্দাদের একটি দল। ওই রাতেই তাঁদের পুরো ঘটনা সম্পর্কে জানায় রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন। শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তদন্তকারীরা। বিধানসভার সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। পাশাপাশি, মার্শাল-সহ অন্য নিরাপত্তা আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা। তাতেই জানা গিয়েছে, বিধানসভায় নিরাপত্তার জন্য মোট ১০০টি সিসিটিভি বসানো রয়েছে। যার ৯৪টিই বিকল হয়ে গিয়েছে!

আরও পড়ুন: উঃপ্রদেশ বিধানসভায় উদ্ধার হওয়া পাউডার বিস্ফোরকের মশলা!

সূত্রের খবর, এ দিন তদন্তকারীদের কাছে অনেক বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, অনেক  বিধায়ক নিরাপত্তা-নিয়মের ধার ধারেন না। সহযোগিতাও করেন না। এমনকী, নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাঁদের শরীর স্ক্যান করা হলে অনেকে তার প্রতিবাদও করেন।

রাজ্যে নারী সুরক্ষার নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্কের মুখে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বার বার বিরোধীদের নিশানার মুখে পড়তে হচ্ছে বিজেপির এই মুখ্যমন্ত্রীকে। এরই মধ্যে বিধানসভায় বিস্ফোরক মেলার খবরে বিরোধীদের নতুন করে আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে যোগীকে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা বিপন্ন বলে সরব হয়েছে সরব কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি।

পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে আগেভাগেই এনআইএ তদন্ত চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বার সেই এনআইএ তদন্তই নতুন করে বিড়ম্বনা বাড়াল আদিত্যনাথের।