এক দিকে গুরুগ্রামের রায়ান ইন্টারন্যাশনাল, অন্য দিকে দিল্লির টেগোর পাবলিক স্কুল। পর পর দুই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের শিশু নিগ্রহ। এ বার তালিকায় নাম তুলল উত্তরপ্রদেশ। স্কুলের টিউশন ফি দিতে না পারার ‘অপরাধে’ চার বছরের এক শিশুকে দীর্ঘ ক্ষণ আটকে রাখা হল স্কুল চত্বরে।

ঘটনাটি গত শুক্রবারের। উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর এলাকার অশোক পাবলিক অ্যান্ড সিনিয়র সেকন্ডারি স্কুলে নার্সারির ছাত্র অভয় সোলাঙ্কি। তাঁর বাবা খেতে চাষ করেন। অভয়ের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, চাষের কাজে মন্দা চলায় একটু টানাটানি চলছিল। তাই গত তিন মাসের স্কুলের টিউশন ফি দিতে পারেননি তাঁরা। অভয়ের বাবা জানান, এই কারণে শুক্রবার ক্লাসের সকলে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই অভয়কে পাকড়াও করেন স্কুলের অধ্যক্ষ। তাঁকে চার ঘণ্টা ফাঁকা ঘরে আটক করে রাখা হয়। দীর্ঘ ক্ষণ পরেও ছেলে স্কুল থেকে না ফেরায় ভয় পেয়ে যান অভয়ের বাবা-মা।

কিছু ক্ষণের মধ্যেই স্কুলে পৌঁছান তাঁরা। অভয়ের পরিবারের অভিযোগ, বেতন না দিলে অভয়কে ছাড়া হবে না বলেও জানিয়ে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে অবশ্য বেতন মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় ছাড়া হয় ওই ছাত্রকে। এর পরেই পুলিশে অভিযোগ জানায় অভয়ের পরিবার।

এক পুলিশ অফিসার পিকে তিওয়ারি জানান, অভয়কে আটকে রেখে তার বাবা-মা আসার অপেক্ষায় ছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা ছিল বেতন না আনলে ছাড়া হবে না অভয়কে। তবে তিওয়ারি জানান, সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করা হয়েছে স্কুলের তরফে।

আরও পড়ুন: ধর্ষণ দিল্লির স্কুলে, পাকড়াও পিওন

স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, স্কুল-বাস ধরতে পারেনি অভয়। সে জন্যই স্কুলে কিছু ক্ষণ বসে ছিল সে। স্কুলের তরফে অভয়ের বাবা-মাকেও খবর দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা এলে একবারই শুধু বেতনের কথা বলা হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই স্কুলের অধ্যক্ষ এবং মালিক পলাতক।