কাশ্মীরে গিয়ে উপত্যকার যুবকদের ফের বুকে টেনে নেওয়ার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তাঁর সফরের প্রতিবাদে ডাকা হরতাল আর প্রশাসনের কড়াকড়িতে স্তব্ধ কাশ্মীর বুঝিয়ে দিল, কেন্দ্রের বার্তার কোনও সদর্থক প্রভাব পড়া এখনও দূর অস্ত।

সম্প্রতি রমজান মাস ও অমরনাথ যাত্রার প্রেক্ষিতে কাশ্মীরে একতরফা সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও বিরোধী ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লারা। উদাহরণ হিসেবে ২০০০ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে সেনা অভিযান বন্ধ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়। মেহবুবা-ওমরদের প্রস্তাব মেনে সেনা অভিযান বন্ধও করে কেন্দ্র। কিন্তু পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন ও বিচ্ছিন্নতাবাদী হুরিয়ত কনফারেন্স এই সংঘর্ষবিরতিকে ‘উপহাস’ অ্যাখ্যা দিয়েছে।

আজ লাদাখের লে-তে জোজি-লা গিরিপথে এশিয়ার দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ তৈরির কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মোদী। যোগ দেন বৌদ্ধ ধর্মগুরু কুশক বাকুলা রিনপোচের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানেও। পরে শ্রীনগরে কৃষ্ণগঙ্গা জলবিদ্যুৎ ও শ্রীনগর রিং রোড প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যে সব কাশ্মীরি যুবকেরা হিংসার পথ বেছে নিয়েছে তাদের বলছি শান্তি ও স্থিতিশীলতার কোনও বিকল্প নেই। এক জন কাশ্মীরি যুবক একটি পাথর ছুড়ে মারলেও উপত্যকার স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়।’’

নাম না করে পাকিস্তান ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিঁধেছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি মুম্বই হামলায় পাক জঙ্গিদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। তা নিয়ে পাক সেনার সঙ্গে টানাপড়়েন শুরু হয়েছে শরিফের ক্ষমতাসীন দল পিএমএলএন-এর। মোদীর কথায়, ‘‘যারা সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাসে মদত দিচ্ছিল তাদের ঐক্যই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। উপত্যকায় যে সব কায়েমী স্বার্থ হিংসায় মদত দেয় তাদের চিহ্নিত করতে হবে। রমজান মাসে সেনা অভিযান বন্ধ থাকায় বোঝা যাবে কারা ধর্মের নামে হিংসা ছ়়ড়়ায়।’’ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এ দিন বাজপেয়ীর কথা উল্লেখ করেছেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘‘বাজপেয়ী কাশ্মীরিয়তের ভক্ত ছিলেন। মোদীও তাই।
গালিগালাজ বা বুলেট দিয়ে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হবে না। কাশ্মীরিদের বুকে জড়িয়ে ধরতে হবে।’’ স্বাধীনতা দিবসেও এ কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু কেন্দ্রের বার্তার সদর্থক প্রভাব এখনও দেখা যায়নি উপত্যকায়। এ দিন কাশ্মীরে কার্যত স্তব্ধ ছিল জনজীবন। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হরতাল ডাকায় গোলমালের আশঙ্কা ছিল। তাই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের গৃহবন্দি করে প্রশাসন। উপত্যকার কয়েকটি অংশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। বন্ধ রয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট।