দাপুটে গলায় কথায় কথায় ‘জয় শ্রীরাম’, কখনও তার মোকাবিলায় ‘আল্লা হু আকবর’।

গত দু’দিন ধরে লোকসভায় সাংসদদের শপথের সময় এই ছবিটিই দেখল গোটা দেশ। অথচ নিয়ম বলছে, শপথবাক্যের একটি শব্দও বদলানো যায় না। সঙ্গে কিছু যোগ করাও যায় না। তা সত্ত্বেও চলল দেদার স্লোগান। আর বুধবার নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের উপস্থিতিতেই তার বিরোধিতা করে কংগ্রেসের অবস্থানটি মেলে ধরলেন লোকসভায় দলের নতুন নেতা অধীর চৌধুরী। শুধু সনিয়া-রাহুল গাঁধীরই মন কাড়লেন না অধীর, বিরোধীদেরও নজর কাড়লেন প্রথম বক্তৃতায়।

নতুন স্পিকার ওম বিড়লা দায়িত্ব গ্রহণের পরেই অধীর বলছিলেন, ‘‘কয়েক দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এ বারে পক্ষ-বিপক্ষের কেউ থাকবেন না। নিরপেক্ষ হয়েই কাজ হবে। ভাবনাটা ভাল। কিন্তু সংসদে পক্ষ ও বিপক্ষের সঙ্গে বহুপক্ষ হবে, আপনাকে (স্পিকারকে) নিরপেক্ষ থাকতে হবে। গত দু’দিনে কখনও ‘জয় শ্রীরাম’, কখনও ‘আল্লা হু আকবর’, কখনও ‘জয় কালী’ রবও উঠেছে। আমার ব্যক্তিগত মত…’’

এটুকু বলতেই পাশে বসা সনিয়া বোঝালেন এটা অধীরের ব্যক্তিগত মত নয়, তাঁর এবং দলেরও। অধীরকে বললেন, ‘‘এ’টি সংসদের মর্যাদার প্রশ্ন।’’ অধীরও একটি হিন্দি কবিতা উদ্ধৃত করে বলেন, ‘‘মৌলবি যখন মসজিদে রামকে দেখবেন, পূজারি মন্দিরে দেখবেন রহমানকে, মানুষ যখন মানুষের মধ্যে শুধু মানুষকেই দেখবেন, দুনিয়ার ছবিটাই যাবে বদলে।’’ সঙ্গে সঙ্গে রাহুল-সনিয়া-সহ গোটা বিরোধী শিবির টেবিল চাপড়ে অধীরের বক্তব্যকে অভিনন্দন জানালেন।

চুপ বিজেপি শিবির। যে-বিজেপি  সাংসদেরা গত দু’দিন ধরে সংসদে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলছিলেন। যে-বিজেপি সাংসদেরা কিছু ক্ষণ আগেই অধীরের বিরুদ্ধে রে-রে করে ওঠেন, যখন প্রথম দিনেই অধীর প্রতিদিন ৩৬ জন কৃষকের আত্মহত্যার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করছিলেন। অধীরের বক্তব্যে সনিয়া এতটাই খুশি হন যে, রাহুলকে টপকে হ্যান্ডশেক করতে উঠে যান। পাশে বসা রাহুলও অধীরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বলেন, ‘‘খুব ভাল বলেছেন!’’ পিছন থেকে উৎসাহ দেন শশী তারুরেরাও।

কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, ‘‘আসলে দলের দর্শনটিই আজ সোজাসাপ্টা ভাষায় মেলে ধরেছেন অধীর। সাফ জানিয়েছেন— বিতর্ক, আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে দল। কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্য হওয়ার সময়েই সংসদীয় গণতন্ত্রকে মজবুত করার শপথ নিতে হয় সকলকে। ফলে সে-পথে যতটা হাঁটার দরকার, কংগ্রেস হাঁটবে। তবে বিরোধীদেরও যেন সমান সুযোগ দেওয়া হয়।’’