পোস্টপেড মোবাইল পরিষেবা চালু করে উপত্যকার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়েছিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। কিন্তু গত কাল শ্রীনগরে গ্রেনেড হামলার পরে পরিস্থিতি আদৌ বদলাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ দিনও উপত্যকার পরিস্থিতি বিশেষ বদলায়নি। উল্টে শ্রীনগরের নানা এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। আজ উপত্যকার নিষেধাজ্ঞা ৭০ দিনে পড়ল।

পর্যটকদের যাতায়াতের উপরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে আগেই। গত কাল প্রশাসন জানায়, সোমবার থেকে গোটা কাশ্মীরে পোস্টপেড মোবাইল চালু হবে। সেই সঙ্গে জঙ্গি শাসানির মুখে পড়লে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানাতে বলেন সরকারি মুখপাত্র রোহিত কানসাল। তাঁর আশঙ্কাকে সত্যি করে বিকেলেই শ্রীনগরের হরি সিংহ হাই স্ট্রিটে ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়ে জঙ্গিরা। এক মহিলা-সহ সাত জন আহত হন। ফলে ফের থমথমে হয়ে ওঠে উপত্যকার পরিস্থিতি।

আজ উপত্যকায় বেশির ভাগ দোকানপাটই ছিল বন্ধ। কেবল টিআরসি চক-লাল চক এলাকায় বাজার বসেছিল। সাধারণত রবিবার এই বাজার বসে। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অন্য দিনেও এখানেই পসরা সাজিয়ে বসছেন অনেক ব্যবসায়ী। অন্য দোকান খোলা না থাকায় শীতের আগে জামাকাপড় ও অন্যান্য জিনিস কিনতে আজ সেখানেই ভিড় জমান বাসিন্দারা। সকালে সাড়ে দশটা পর্যন্ত শ্রীনগরের অন্য কয়েকটি দোকানও খোলা ছিল বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

আজ কাশ্মীরে অটো ও বিভিন্ন জেলার মধ্যে সংযোগকারী কয়েকটি ট্যাক্সি চলতে দেখা গিয়েছে। এ ছাড়া গণপরিবহণ ব্যবস্থা স্তব্ধই ছিল। গত কালের গ্রেনেড হামলার জেরে শ্রীনগরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। লাল চক, জাহাঙ্গির চক, হরি সিংহ হাই স্ট্রিট, রিগাল চক, টিআরসি চক, পোলো ভিউয়ের মতো এলাকায় টহল দিয়েছে বাহিনীর ফ্লাইং স্কোয়াড। জায়গায় জায়গায় তল্লাশিও চলছে। 

এক পুলিশ কর্তার বক্তব্য, ‘‘টিআরসি চক-লাল চক বাজারে আজ যাঁরা জিনিসপত্র বিক্রি করেছেন কিছুটা তাঁদের নিরাপত্তার জন্যও আমরা বাহিনীর গতিবিধি বাড়িয়েছি।’’

সংবাদ সংস্থা