পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের কেলেঙ্কারির তদন্তে শুধু সরকারি নয়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাক পড়ছে বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্ণধারদেরও। তার জেরে আতঙ্কে ব্যাঙ্ক কর্তারা। শিল্পপতিদের জন্য বড় অঙ্কের ঋণ মঞ্জুরের সিদ্ধান্ত নিতে এখন তাঁরা দোনামনা করছেন। এর প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট মহলের।

প্রথমে নোটবন্দি, তার পরে জিএসটি চালু— পর পর দু’টি ঘটনায় ২০১৬ সালের শেষ থেকেই খুঁড়িয়ে চলছে অর্থনীতি। গত বছরের শেষে তার চাকায় সামান্য গতির ছোঁয়া লেগেছিল। সবে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে বৃদ্ধির হার ৭.২ শতাংশ ছুঁয়েছে। কিন্তু পিএনবি-র প্রায় ১২,৭০০ কোটি টাকার প্রতারণার ধাক্কায় ফের তা হোঁচট খেতে পারে বলে মনে করছে শিল্প মহল। সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকও। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর সি রঙ্গরাজনের কথায়, ‘‘আর্থিক বৃদ্ধির স্বার্থে দ্রুত এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে ব্যাঙ্কগুলিকে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া শুরু করতে হবে।’’

বণিকসভার এক কর্তা বলেন, ‘‘দ্বিতীয় ইউপিএ-সরকারের আমলে টু-জি, কয়লা, কমনওয়েলথ গেমস কেলেঙ্কারির তদন্ত শুরু হতে আমলাদের মধ্যে ঠিক এমনই আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। সচিবরা ফাইলে সই করতেই ভয় পেতেন। বিজেপি তখন নীতিপঙ্গুত্বের অভিযোগ তুলত। নরেন্দ্র মোদী সরকারের শেষ বছরে তারই পুনরাবৃত্তি হতে পারে।’’

শিল্পমহলের আরও আশঙ্কা, এক বছরের মাথায় লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে মোদী সরকারও এখন অনাদায়ী ঋণের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে চাইবে। ইতিমধ্যেই সমস্ত ব্যাঙ্কের কাছে ৫০ কোটি টাকার বেশি অনাদায়ী ঋণের তথ্য জানতে চেয়েছে অর্থ মন্ত্রক। ফলে নতুন ঋণ বণ্টনে আরও ধাক্কা লাগবে।

অর্থ মন্ত্রকের পাল্টা যুক্তি, ভোট থাক বা না থাক, জালিয়াতি কোনও অবস্থাতেই চলতে দেওয়া সম্ভব নয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে সরকার পুঁজি জোগাচ্ছে। অর্থনীতির ক্ষতি হবে— জনগণের টাকা নয়ছয় করার এটা কোনও যুক্তিই হতে পারে না। বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ব্যাঙ্ক পরিষেবা দফতরের সচিব রাজীব কুমারের স্পষ্ট কথা, ‘‘ব্যাঙ্কের উচ্চপদস্থ কর্তাদের অবশ্যই দায়বদ্ধতা রয়েছে।’’

সে কথা মেনেও শিল্প মহল আবার বলছে, আতঙ্ক সব সময় যুক্তি মেনে চলে না। ফলে নীরব মোদী কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরে গোড়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির কর্তারা অতিরিক্ত সাবধানী হয়ে পড়েছিলেন। এখন আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের ছন্দা কোছর ও অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের শিখা শর্মাকে এসএফআইও সমন পাঠানোর পরে বেসরকারি ব্যাঙ্কেও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা শিল্প মহলের।

শিল্পমহলের আশঙ্কা অমূলক নয় বলে মনে করছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন ডেপুটি গভর্নর এইচ আর খান। তাঁর মতে, পিএনবি কেলেঙ্কারি গোটা ব্যাঙ্ক ক্ষেত্রেই দীর্ঘ ছায়া ফেলবে। তাই, সরকারের প্রতিক্রিয়ায় আরও ভারসাম্য থাকা জরুরি ছিল।