এনআরএস-এর আন্দোলনের ঢেউ রাজধানীতেও। জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে হেলমেট-ব্যান্ডজ পরে চিকিৎসা করলেন দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর (এইমস) চিকিৎসকরা। আগামিকাল এইএমস-এ সমস্ত পরিষেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে এই হাসপাতালের রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে। দেশের সব মেডিক্যাল কলেজকে সেই কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এইমস-এ চিকিৎসার জন্য আসা রোগী এবং তাঁদের পরিজন হোক, বা ভর্তি রোগীদের দেখতে আসা আত্মীয়, বন্ধুরা— সবাই কার্যত হতবাক হাসপাতালে ঢোকার পর। সব চিকিৎসকের মাথায় হেলমেট পরা। কারও কারও মাথায় আবার ব্যান্ডেজও বাঁধা। ওই অবস্থাতেই সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেনতাঁরা। কেন? চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এনআরএস কাণ্ডে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতেই তাঁদের এই প্রতীকী প্রতিবাদ।

হাসপাতালের রেসিডেন্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, দিনের পর দিন চিকিৎসা পেশা সঙ্কটময় হয়ে উঠছে। তার জন্য অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিবাদী পোস্ট বা ডিপি বদল করে কোনও পরিবর্তন আসবে না। তাই শুক্রবার এইমস হাসপাতাল পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হেলমেট পরে রোগী দেখছেন এক চিকিৎসক। ছবি: টুইটার থেকে 

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য সঙ্কট আরও জটিল, ফুঁসছে চিকিৎসক মহল, কড়া অবস্থানে অনড় সরকারও

আরও পডু়ন: নিঃশর্ত ক্ষমা চান মুখ্যমন্ত্রী, না হলে আন্দোলন চলবে, ঘোষণা এনআরএস-এর জুনিয়র ডাক্তারদের

এইমসের চিকিৎসকদের এই সংগঠনের তরফে দেশের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তারদের তাঁদের আন্দোলনে শামিল হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘আমাদের আত্মসম্মান রক্ষার্থেই এই আন্দোলন। আমরা আর আপস করতে রাজি নই। চিকিৎসকদের নিারপত্তায় আমরা কেন্দ্রীয় আইন চাই।’’

অন্য দিকে আইএমএ-র দু’জনের প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার এনআরএস হাসপাতালে এসে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবিও জানান প্রতিনিধিরা। আইএমএ-র সভাপতি তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেনও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানান ওই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।