রাফাল নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের হয়ে রুখে দাঁড়ালেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল বি এস ধানোয়া।

ইউপিএ আমলের সিদ্ধান্ত পাল্টে সরাসরি ফরাসি সংস্থা দাসো থেকে ৩৬টি রাফাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। তার সমর্থনে আজ বায়ুসেনা প্রধানের যুক্তি, এর আগেও তড়িঘড়ি যুদ্ধবিমান কেনা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের শত্রুদের মনোভাব রাতারাতি বদলে যেতে পারে। তাদের ক্ষমতার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া প্রয়োজন।’’ পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে ভারতের বায়ুসেনার শক্তির তুলনা করে ধানোয়ার বক্তব্য, ভারতের ১০ স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমানের ঘাটতি রয়েছে। এক একটি স্কোয়াড্রনে ১৬ থেকে ১৮টি যুদ্ধবিমান থাকে।

বায়ুসেনা প্রধানের এই মন্তব্য নিয়ে কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, যুদ্ধবিমানের যে অভাব রয়েছে, তা বুঝেই মনমোহন সিংহের সরকার ১২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যার ১০৮টি এ দেশে তৈরি হত। সেই বরাত পেত হ্যাল। মোদী সরকার সরাসরি দ্বিগুণ সংখ্যক বিমান কিনছে, তা-ও অনেক চড়া দামে। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ‘‘সামরিক বাহিনীর জন্য মোদী সরকারের চিন্তা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্টেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেনার কর্তারাই বলেছেন, তাঁদের হাতে অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ কেনার অর্থ নেই। এখন ৫ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা বাঁচাতে সেনার ১.৫ লক্ষ পদ কমানো হবে বলে
শোনা যাচ্ছে। যে মোদী সরকার রাফাল-চুক্তিতে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি করেছে, তার সিন্দুকে সেনার জন্য ৫-৭ হাজার কোটি টাকাও নেই?’’

বায়ুসেনা প্রধানের অবশ্য দাবি, বেশি সংখ্যক রাফাল কেনার সিদ্ধান্তে তাঁদের লাভই হবে। কারণ, চিন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে পাল্লা দিতে ৪২ স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান প্রয়োজন। তা এখন ৩১ স্কোয়াড্রনে নেমে এসেছে। শুধু ‘তেজস’ যুদ্ধবিমানে প্রয়োজন মিটবে না। রাফাল-ও দরকার। এর সঙ্গে রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা যোগ হলে বায়ুসেনার ক্ষমতা অনেকখানিই বাড়বে।