দেশের বড় অংশ জুড়ে কৃষকদের ১০ দিনের ধর্মঘট তথা ‘গাঁও বন্‌ধ’ চতুর্থ দিনে পড়ল আজ। বিজেপি শাসিত অন্তত আটটি বড় রাজ্যে চাষিরা ফল-দুধ-আনাজ শহরে না পাঠিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিক্রি ও গরিবদের মধ্যে বিলি করছেন। উত্তর ও মধ্য ভারতের শহরগুলিতে দাম বাড়ছে এগুলির। এর মধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রের শ্রমিকরাও নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মঘটে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। শ্রমিক সংগঠনগুলির ক্ষোভ, ত্রিপাক্ষিক আলোচনা না করেই একের পর এক শ্রমিকদের বিষয়ে আইনি সংশোধন ও সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে মোদী সরকার।

শ্রমিক-নেতারা জানাচ্ছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে এর কর্মীরা ও কয়লা ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক খননের প্রতিবাদে খনি শ্রমিকরা ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আইন পাল্টে বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থাগুলি বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে বিদ্যুৎ শ্রমিকরাও ধর্মঘট নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। কেন্দ্রের মোটর ভেহিকল আইনের প্রতিবাদে রাজ্যে রাজ্যে পরিবহণ ক্ষেত্রে ধর্মঘট হয়েছে। এ বার জাতীয় স্তরেও ধর্মঘটের পরিকল্পনা চলছে। ‘মোদী সরকার হঠাও’-এর ডাক দিয়ে এআইটিইউসি অগস্ট-সেপ্টেম্বরে ৪০ দিনের বিক্ষোভে নামছে। একই প্রস্তুতি শুরু করেছে অন্য শ্রমিক সংগঠনগুলিও।

মোদী জমানায় ২০১৫-র পরে আর জাতীয় শ্রম সম্মেলন হয়নি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় শ্রম সম্মেলন ডেকেও তা বাতিল করা হয়েছিল। এআইটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক অমরজিৎ কউর বলেন, ‘‘প্রশ্ন করলেই উত্তর মিলছে, প্রধানমন্ত্রীর সময় মিলছে না। আসলে প্রধানমন্ত্রী মোদী কোনও প্রশ্নের মুখে পড়তে চান না। আমরা জানিয়ে দিয়েছি, আগের শ্রম সম্মেলনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া নিয়ে রিপোর্ট পেশ করতে হবে।’’