ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর দিকে আরও একটা বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। দু’দেশের জনসাধারণের মধ্যে সংযোগ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে চালু হল নতুন রেডিও চ্যানেল ‘আকাশবাণী মৈত্রী’। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় মঙ্গলবার কলকাতার রাজভবন থেকে আনুষ্ঠানিক এই চ্যানেলের উদ্বোধন করলেন। আকাশবাণী কলকাতা খুব বড় ভূমিকা পালন করতে চলেছে ভারত-বাংলাদেশের এই মৈত্রী রেডিওর সম্প্রচারে।

প্রণব মুখোপাধ্যায়

বাংলাদেশের জন্মমুহূর্ত থেকেই আকাশবাণী সে দেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ন’মাস ধরে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবুর রহমানের অনুগামীদের হাত থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছিল ইসলামাবাদ। মুক্তিযুদ্ধের খবর, বাঙালিদের উপর পাকিস্তানের সেনার ভয়ঙ্কর নির্যাতনের খবর গোটা বিশ্বকে জানাতে তখন তৎপর ছিল আকাশবাণী বা অল ইন্ডিয়া রেডিও। নির্বাসিত বাংলাদেশ সরকারের রাজধানী হয়ে উঠেছিল কলকাতা। মুজিব অনুগামী সেই সরকারের বার্তাও সম্প্রচারিত হত আকাশবাণী থেকেই।

রাজভবনে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আকাশবাণী মৈত্রীর।

স্বাধীন বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার পরও সেই মৈত্রীর বন্ধন অক্ষুণ্ণ ছিল। ভারত-বাংলাদেশের যৌথ অনুষ্ঠান আকাশবাণীতে তার পরেও অনেক বছর সম্প্রচারিত হত। ২০১০ সালে সেই অনু্ষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ২০১৩ সালে ফের ভারত-বাংলাদেশ রেডিও মৈত্রীর বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। সেই পথে হেঁটেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক পুরোদস্তুর নতুন রেডিও চ্যানেল চালু করে দিল। ৫৯৪ কিলোহার্ৎজে সম্প্রচারিত এই চ্যানেলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আকাশবাণী মৈত্রী’। রাজভবন থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই চ্যানেলের উদ্বোধন করার পর রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় মঙ্গলবার বলেন, আকাশবাণী মৈত্রী দু’দেশের জনগণের মধ্যে সংযোগ আরও নিবিড় করতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। আকাশবাণী মৈত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী রাজ্যবর্ধন সিংহ রাঠৌর, প্রসার ভারতীর সিইও জহর সরকার, আকাশবাণীর মহানির্দেশক এফ শাহরিয়র-সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা আবদুল হামিদ

দিল্লি এবং কলকাতা থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হবে আকাশবাণী মৈত্রীতে। তবে, ঢাকার সঙ্গে সংযোগ আরও নিবিড় করে তোলার ক্ষেত্রের স্বাভাবিক ভাবেই আকাশবাণীর কলকাতা কেন্দ্রকে অনেক বড় ভূমিকা নিতে হচ্ছে। আকাশবাণী কলকাতার বার্তা সম্পাদক তথা আকাশবাণী মৈত্রী চ্যানেলের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সুস্মিতা মণ্ডল জানালেন, শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য-সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা অনুষ্ঠান হবে আকাশবাণী মৈত্রীতে। সম্প্রচারিত হবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকছে খবরও। ভারত ও বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের খবর, আন্তর্জাতিক খবর এবং ঢাকার খবর নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান হবে আকাশবাণী মৈত্রীতে।

আরও পড়ুন: তিন বছরের মধ্যেই আখাউড়া-আগরতলা রেল, খুলছে নতুন দুয়ার

ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ দু’দেশের সরকারের অনেকেই আকাশবাণী মৈত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন।