ছোটবেলায় অন্যদের স্কুলে যেতে দেখে তারও সাধ হত। ভালবাসত আঁকতে। পা দিয়ে মাটিতেই অক্ষর লিখত। কিন্তু তার সামনে দেওয়াল তুলে দিয়েছিল হাতের অভাব। এখন পায়ের জোরেই জেবিন কওসার গোটা জেলায় স্বনামধন্য। তাঁর ‘লড়াই’ নিয়ে ছবি তৈরি করেছেন অক্ষয় কুমার। সম্প্রতি অনলাইনে মুক্তি পেয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্যের সেই ছবিটি।

অসমের হোজাই জেলার মোরাঝার গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জব্বর ও ফতিহা বেগমের মেয়ে জেবিন জন্মেই ছিল দু’টি হাত ছাড়া। পড়শিদের কটাক্ষেও মেয়েকে ভেঙে পড়তে দেননি বাবা-মা। বরং মেয়ের পড়ার ইচ্ছে দেখে তাঁকে জ্ঞানজ্যোতি অ্যাকাডেমি স্কুলে ভর্তি করান। শুরু হয় পায়ে লেখা। গত বছর সেই মেয়েই পায়ে লিখে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পাশ করে। লেখার পাশাপাশি ছবি আঁকাতেও দারুণ ‘পা’ মেয়ের। সাজতে ভালবাসে জেবিন। পা দিয়েই নিপুণ ভাবে ঠোঁটে লিপস্টিক লাগায়, কাজল পরে। তাঁর কথা জানতে পেরে অভিনেতা অক্ষয় কুমার জেবিনকে মুম্বইয়ে আমন্ত্রণ জানান। পাশে বসিয়ে শোনেন জেবিনের সংগ্রামের কাহিনি। দু’দিন নিজের বাড়িতে রেখে মুম্বই ঘুরিয়ে দেখান অক্ষয়। তখনই তৈরি হয় অক্ষয়-জেবিনের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিটি। পরিচালনা করেন হরেন্দ্র সিক্কা। সেই ছবিই সম্প্রতি অনলাইনে মুক্তি পেল।

জেবিনকে নিয়ে উচ্ছসিত তাদের গ্রাম। জ্ঞানজ্যোতি অ্যাকাডেমির প্রধানশিক্ষিকা আফসানা বেগম চৌধুরি জানান, প্রথমে তাঁরাও ভরসা পাননি। কিন্তু সকলের আশঙ্কা মুছে নিজের মেধা, প্রতিভা ও পরিশ্রম দিয়ে সাফল্য অর্জন করে সে। জেবিনের কৃতিত্বকে সম্মান দিতে এখন স্কুলের সব ছাত্রছাত্রীর পরিচয়পত্রের পিছনে, পায়ে কলম ধরে থাকা জেবিনের ছবি থাকে। 

পেশায় অটোচালক আব্দুল জব্বর জানান, ছয় ছেলেমেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাতে হয়। মেয়েকে টিউশন পড়ানোরও সাধ্য ছিল না। বর্তমানে হোজাইয়ের মাকিয়ার আজমল কলেজে কলা বিভাগে পড়া জেবিন তার সাক্ষাৎকারে অক্ষয় কুমারকে বলেছে, সে বড় হয়ে আইপিএস অফিসার হতে চায়। প্রিয় নায়কের একটা পোট্রেটও উপহার দিয়েছে জেবিন। পা দিয়ে আঁকা সেই ছবিতে জেবিনের অটোগ্রাফ চেয়ে নিয়েছেন অক্ষয়।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।