আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা ভারতে হামলা চালাতে উৎসুক বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি বিশেষ দল। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তার কড়াকড়়ির জন্য ওই সংগঠনের শক্তি আপাতত কমে গিয়েছে বলেও জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের দলটি।

নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আইএস, আল কায়দা ও এই সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাজকর্ম সম্পর্কে নিয়মিত রিপোর্ট দেয় এই দলটি। জঙ্গি সংগঠনগুলি সম্পর্কে তাদের তথ্য সরবরাহ করে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র। রিপোর্টে ওই দলটি জানিয়েছে, এখন আইএসের হামলা চালানোর ক্ষমতা অনেক বেশি ঠিকই। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা ভেবে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করতে পারে এমন নেতার সংখ্যা বেশি আল কায়দায়।

রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট অনুযায়ী, আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে আয়মান আল জাওয়াহিরি এবং ওসামা বিন লাদেনের ছেলে হামজার মতো শীর্ষ আল কায়দা নেতারা লুকিয়ে থাকতে পারে। অন্য নেতারা সম্ভবত আরও নিরাপদ এলাকায় সরে গিয়েছে। তবে লাঘমান, পাকতিকা, কন্দহর, গজনী ও জ়াবুল প্রদেশে রয়েছে কয়েকশো আল কায়দা জঙ্গি। এক সদস্য রাষ্ট্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আল কায়দার সদস্যেরা সহজেই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। স্থানীয় গোষ্ঠীর লড়াইয়ের সঙ্গেও নিজেদের জড়িয়ে ফেলে তারা। এখনও তালিবানের সঙ্গে তাদের গভীর যোগ রয়েছে।

অন্য দিকে, আফগানিস্তানে আইএসের প্রায় ৪ হাজার জঙ্গি রয়েছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র। ইউরোপে সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার চেষ্টার ছক আফগানিস্তানের আইএস নেতৃত্বই করেছিল বলে মনে করছেন পশ্চিমী দেশগুলির গোয়েন্দারা। আফগানিস্তানের কাবুল, হেরাট, জালালাবাদেও আফগান সরকার ও তালিবানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কাশ্মীরে কোনও হামলায় আইএসের হাত থাকার কথা রিপোর্টে উল্লেখ করেনি রাষ্ট্রপুঞ্জের দলটি। সম্প্রতি কাশ্মীরে একটি হামলায় আইএসের স্থানীয় সংগঠন জড়িত রয়েছে বলে দাবি করেছিল দিল্লি।