নির্বাচনের আগে এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমলের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে ১৫০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ তুলেছিলেন কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অঞ্জন দত্ত। আজমল পাল্টা জবাবে জানান— তাঁর কাছে এত টাকা রয়েছে যে বিরোধী নেতাদের অনেককেই কিনে ফেলতে পারেন।

দক্ষিণ শালমারার প্রার্থী হিসেবে দাখিল হলফনামায় অবশ্য তাঁর দাবির প্রতিফলন দেখা গেল না। আজমল জানিয়েছেন, ৫০ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা রয়েছে তাঁর কাছে। তবে ওই সম্পদের জোরেই সুগন্ধী ব্যবসায়ী আজমল অসমে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটে প্রার্থীদের মধ্যে সব চেয়ে ধনী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। মহিলা প্রার্থীদের মধ্যে সব চেয়ে ধনী পূর্ব গুয়াহাটির কংগ্রেস প্রার্থী ববিতা শর্মা। কমিশন সূত্রে খবর, তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ১৪ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী কালের নির্বাচনে রাজ্যের ১৩টি জেলার ৬১টি কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ২৭৭ জন। ৬১ কেন্দ্রের মধ্যে কংগ্রেস ৫৭টি, এআইইউডিএফ ৪৭টি, বিজেপি ৩৫টি, অগপ ১৯টি, বিপিএফ ১০টি, সিপিএম ৫টি অন্যান্য দল ১২৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। নির্দলের সংখ্যা ২১৪।

৪৮ জন মহিলা-সহ দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫২৫ জন প্রার্থী লড়বেন। তাঁদের মধ্যে ১২৫ জন কোটিপতি। সম্পত্তির হিসেবে আজমলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন বঙাইগাঁওয়ের নির্দল প্রার্থী ইতেশ বরদলৈ। তাঁর ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ৫০ কোটি ৪৩ লক্ষ। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বরক্ষেত্রীর বিজেপি প্রার্থী নারায়ণ ডেকা। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১৭ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা।

দরিদ্রতম প্রার্থী নবকুমার নাথ জালুকবাড়িতে হিমন্তবিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে লড়বেন। ওই নির্দল প্রার্থীর সম্পত্তি বলতে ব্যাঙ্কে গচ্ছিত ২৮২ টাকা। এর পরেই আছেন নলবাড়ির এসইউসিআই প্রার্থী মণীন্দ্র দোলে। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার টাকা। আড়াই হাজারের সম্পত্তি-সহ গরিদ্রতম প্রার্থীদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন গোয়ালপাড়ার ভারতীয় রাষ্ট্রবাদী পার্টির প্রার্থী আব্দুল ওয়াহব শইকিয়া।

কোটিপতির হিসেবে কংগ্রেসই এগিয়ে। তাঁদের ৫৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩০ জন কোটিপতি। বিজেপির ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জন, অগপর ৯ জন, এআইইউডিএফের ১২ জন, বিপিএফের ৬ জন কোটিপতি। নির্দল প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা ৩৯। দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রার্থীদের মধ্যে ৪২ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা। এর মধ্যে হত্যা, অপহরণ, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তের সংখ্যা ৩২ জন। কংগ্রেসের পাঁচ জন, বিজেপির ৫, এআইইউডিএফের ১০, সিপিএম ও সমাজবাদী পার্টির এক জন করে প্রার্থী অভিযুক্ত।