মহারাষ্ট্রে তিন দলের জোট সরকার গড়া নিয়ে জট কমল না আজও। 

শিবসেনা আজও নিশানা করেছে বিজেপিকে। দলীয় মুখপত্রে নাম না-করে তাদের মহম্মদ ঘোরির মতো বিশ্বাঘাতকের সঙ্গে তুলনা করেছে। কিন্তু সংশয় কাটছে না কংগ্রেসের। শরদ পাওয়ারের দলে এনসিপির আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত বিজেপির সঙ্গে রফা হয়ে যেতে পারে শিবসেনার। পওয়ার তাই ধীরে চলো নীতি নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচির প্রশ্নে দিল্লিতে কংগ্রেস-এনসিপির বৈঠক আজ বাতিল হয়। শিবসেনা দলের সাংসদ-বিধায়কদের বৈঠক ডেকেছে আগামী শুক্রবার। যেখানে দলীয় নেতাদের নিয়ে সরকার গড়া নিয়ে ফের এক প্রস্ত আলোচনায় বসবেন উদ্ধব ঠাকরে।

ফলে দিল্লিতে কাল সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে বৈঠকের পরে জোট প্রশ্নে যে সংশয় তৈরি করেছিলেন পওয়ার, সেই মেঘ কাটার বদলে আজ বরং তা গাঢ় হয়েছে। মুখে শিবসেনা বলছে, পওয়ারের জোটে আসা নিয়ে সশংয় নেই। ডিসেম্বরেই সেনার নেতৃত্বে সরকার হবে। তবে তাদের সন্দেহ, এনসিপি যাতে তাদের সঙ্গে জোট না গড়ে, বিজেপি সেই চেষ্টা চালাচ্ছে তলে তলে। কংগ্রেস সূত্র জানিয়েছে, গত কালের বৈঠকে সনিয়া-শরদ, দুই নেতাই সেনার প্রকৃত অবস্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। শরদ-ঘনিষ্ঠ কয়েক জন এনসিপি নেতা মনে করেন, এনডিএ থেকে বেরিয়ে এলেও বিজেপির সঙ্গে সরকার গড়ার চেষ্টা সেনা চালিয়েই যাচ্ছে। বিজেপি যদি মুখ্যমন্ত্রী পদের অর্ধেক মেয়াদ শিবসেনাকে ছাড়তে রাজি হয়, সে ক্ষেত্রে অমিত শাহের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গড়তে সমস্যা নেই উদ্ধবের। সে কারণেই পওয়ার আপাতত ধীরে চলো নীতি নেওয়ার পক্ষপাতী বলে মনে করছেন রাজনীতির লোকজন। কংগ্রেস সূত্রের মতে, সনিয়াও তাড়াহুড়ো করে শিবসেনার মতো দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষপাতী নন। বিশেষ করে কর্নাটকে কয়েক মাস আগেই মুখ পুড়েছে দলের। কংগ্রেস সূত্রের খবর, পওয়ারের সঙ্গে বৈঠকে কর্নাটকের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না-হয়, তা মাথায় রেখে এগোনোর পক্ষপাতী বলে জানান সনিয়া। এর পরেই আজকের কংগ্রেস-এনসিপি বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। তবে আগামিকাল হতে পারে সেই বৈঠক। 

আরও পড়ুন: জালিয়ানওয়ালা বাগও কি দখল মোদী সরকারের? শুরু বিতর্ক

অবশ্য শিবসেনার দাবি, জোট সরকার গড়ার প্রক্রিয়া চলছে। দলের মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘‘পওয়ার ও আমাদের জোট নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সেনার নেতৃত্বে জোট সরকার শপথ নেবে।’’ 

কিন্তু পওয়ারই তো গত কাল সেনার সঙ্গে সরকার গড়া নিয়ে সংশয় তৈরি করেছেন! সে প্রসঙ্গ রাউত বলেন, ‘‘শরদ পওয়ার কী বলতে চেয়েছেন, তা বুঝতে অন্তত একশো বার জন্মাতে হবে।’’

প্রকাশ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে চলেছে শিবসেনা। রাউতের বক্তব্য, শিবসেনা যাতে সরকার গড়তে না-পারে তার জন্য প্রবল ভাবে তৎপর বিজেপি। সরকার গড়তে কংগ্রেস-এনসিপি উভয়েরই সমর্থন প্রয়োজন সেনার। এই পরিস্থিতিতে পওয়ারের দল যাতে শিবসেনাদের জোটের শরিক না-হয়, তার জন্য তলে-তলে এনসিপি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে বিজেপি নেতারা। সেনা সূত্রের মতে, কয়েক জন এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির তদন্ত চলছে। এনসিপি-কে বাগে আনতে সেই মামলাগুলিকে হাতিয়ার করার কৌশল নিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। 

দলীয় মুখপত্রে নাম না-করে বিজেপিকে বিশ্বাসঘাতক বলে আক্রমণ শানিয়েছে শিবসেনা। বিজেপিকে মহম্মদ ঘোরির সঙ্গে তুলনাও করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আঠারো বার ভারত আক্রমণ করেছিলেন ঘোরি। সতেরো বার তিনি পৃথ্বীরাজ চৌহানের কাছে পরাস্ত হন। পৃথ্বীরাজ বারবার তাঁকে ক্ষমা করে দেন। সেটাই কাল হয় তাঁর। শেষ যুদ্ধে জিতে ঘোরি বিশ্বাসঘাতকতা করেন পৃথ্বীরাজের সঙ্গে। শিবসেনাও মহারাষ্ট্রে বিশ্বাসঘাতক ও কৃতঘ্ন প্রবৃত্তির লোকেদের জীবনদান করেছে কয়েক বার। যারা এখন শিবসেনাকে আটকাতে ও পিঠে ছুরি বসাতে তৎপর। যদিও তাদের এত সহজে ছেড়ে দেওয়া হবে না।