ভোটগ্রহণ শেষ। ফল ঘোষণার মুখে কংগ্রেসের নেতাদের ও ন্যাশনাল হেরাল্ডের সম্পাদক ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা ৫০০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানাল অনিল অম্বানীর রিলায়্যান্স গ্রুপ। প্রথমে তাদের আইনজীবী আজ এ কথা জানান। পরে গোষ্ঠীর তরফে এ নিয়ে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, তারা মনে করছে, ভোটের কথা মাথায় রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাফাল চুক্তি প্রসঙ্গে তাদের গোষ্ঠী ও ফ্রান্সের সংস্থা দাসো সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছিল। এখন ভোট মিটে গিয়েছে। তা ছাড়া, রাফালের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। সে কারণে  মানহানির মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।       

এ বারের ভোটে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীর অন্যতম হাতিয়ার ছিল রাফাল। তিনি বলে এসেছেন রাফাল কেনা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী  অনিলকে অন্যায্য ভাবে বরাত ও বিপুল অর্থ পাইয়ে দিয়েছেন। সেই বক্তব্যই উঠে এসেছে কংগ্রেসের বাকি নেতাদের মুখে। এ নিয়ে প্রতিবেদনও ছাপা হয়েছে ন্যাশনাল হেরাল্ডে। সেই সূত্রেই অনিলের সংস্থা আমদাবাদের আদালতে মানহানির মামলা করে। রিলায়্যান্সের আইনজীবী রাশেস পারিখ আজ বলেন, ‘‘অভিযুক্তদের জানিয়েয়েছি, আমরা মামলা প্রত্যাহার করতে চলেছি।’’ ন্যাশনাল হেরাল্ডের আইনজীবী পি এস চম্পানেরীও জানান, মক্কেলের কাছ থেকে মানহানির মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ পেয়েছেন বলে রিল্যায়্যান্স গোষ্ঠীর আইনজীবী তাঁকে জানিয়েছেন। গ্রীষ্মের অবকাশ শেষ হলে বিষয়টি আদালতে উঠতে পারে।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

মানহানির মামলাটি করা হয়েছে রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর সংস্থা রিলায়্যান্স ডিফেন্স, রিলায়্যান্স ইফ্রাস্ট্রাকচার ও রিলায়্যান্স অ্যারোস্ট্রাকচারের তরফে। অভিযুক্তরা হলেন কংগ্রেস নেতা সুনীল জাখর, রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা, উমেন চান্ডি, অশোক চহ্বণ, অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, সঞ্জয় নিরুপম, শক্তিসিন গোহিল এবং ন্যাশনাল হেরাল্ডের সম্পাদক জাফর আগা ও সংবাদ প্রতিবেদক বিশ্বদীপক। ‘রাফাল চুক্তির ১০ দিন আগে অনিল অম্বানী রাফাল ডিফেন্স সংস্থা তৈরি করেছিলেন’— এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন বিশ্বদীপক। মানহানির মামলা করে রিলায়্যান্স অভিযোগ আনে, তাঁদের চেয়ারম্যান অনিল অম্বানী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। গোষ্ঠীর ভাবমূর্তি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। এতে গোষ্ঠীর সুনামের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। নগর দায়রা বিচারক পি জে তমকুওয়ালার এজলাসে চলছিল এর শুনানি।

কংগ্রেসের মুখপাত্র থাকা কালে প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদীর বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করেছিল অনিলের শিল্পগোষ্ঠী। প্রিয়ঙ্কা কংগ্রেস ছেড়ে শিবসেনায় যোগ দিলে দেওয়ার পরই সেই মামলা তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছিল রিলায়্যান্স। এখন তারা বাকিদের বিরুদ্ধেও মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানোয় নানা রকম জল্পনা শুরু হয়েছে।

অধিকাংশ বুথ-ফেরত সমীক্ষা বলছে, রমরম করে ফিরছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। যা নিয়ে খোদ শাসক শিবিরে সংশয় কম নয়। ফল ঘোষণার আগে তাই উচ্ছ্বাসে রাশ টেনে রাখতে চাইছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রবাবু নায়ডু, অখিলেশ যাদবদের মতো বিরোধী নেতানেত্রীরা আবার বুথ সমীক্ষাকে আমলই দিতে রাজি নন। এই অবস্থায় জল্পনা শুরু হয়েছে, ফল ঘোষণার আগেই কেন অনিলের সংস্থা মামলা তুলে নেওয়ার কথা জানাল? তবে কি তারা আভাষ পেয়েছে, মোদী ফিরছেন না! সরকারে আসছে কংগ্রেস বা তাদের সমর্থিত সরকার! দ্বিতীয়
জল্পনাটি হল, অনিল মামলা তুলে নিলে, ভোট যুদ্ধের শেষে  রাহুলও কি এ বার রাফাল নিয়ে যাবতীয় অভিযোগ ঠান্ডা ঘরে পাঠাবেন!