হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ভারতের প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান ‘মার্শাল’ অর্জন সিংহ। শনিবার সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। নয়াদিল্লির সেনা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

বায়ুসেনায় একমাত্র তাঁকেই সেনার ‘ফিল্ড মার্শালের’ সমান সম্মান দেওয়া হয়েছিল। ২০১৬ সালে পানাগড়ে বায়ুসেনা ঘাঁটির নামকরণ করা হয় তাঁর নামে। পরিবার সূত্রে খবর, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ায় শনিবার সকালেই তাঁকে সেনার রিসার্চ অ্যান্ড রেফারাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তাঁর প্রয়াণের খবর পেয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ-সহ বহু বিশিষ্টরা।

আরও পড়ুন: 

ভিআইপি নিরাপত্তা বেড়েই চলেছে মোদী জমানায়, কাটছাঁটের ভাবনা

গাড়ি কিনতে পারলে পেট্রোলের বাড়তি দামও দিতে পারবে মানুষ!

দিল্লির সেনা হাসপাতালে অসুস্থ ‘মার্শাল’কে দেখতে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি:পিটিআই।

১৯১৯ সালের ১৫ এপ্রিল পঞ্জাবের লয়ালপুরে জন্মগ্রহণ করেন অর্জন সিংহ। তাঁর বাবা এবং ঠাকুরদাও সেনাবাহিনীতে ছিলেন। ১৯৩৮ সালে অর্জন সিংহ বায়ুসেনায় যোগ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বেই ইম্ফলে জাপানি সেনাবাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে বায়ুসেনা। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট প্রথম স্বাধীনতা দিবসে, লালকেল্লার মাথায় একশো বিমানের যে বিশেষ প্রদর্শনী হয়, তার নেতৃত্বেও ছিলেন অর্জন সিংহ। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ‘চিফ অব এয়ার স্টাফ’ ছিলেন। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের যুদ্ধে বিরল কৃতিত্বের জন্য দেশের প্রথম ‘এয়ার চিফ মার্শাল’ পদে নিযুক্ত করা হয়  তাঁকে। ১৯৬৫ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মান দেন।

 

বায়ুসেনা থেকে অবসরের পর সুইৎজারল্যান্ড ও ভ্যাটিকান সিটিতে ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব সামলেছেন। এর পর কেনিয়াতে হাই কমিশনার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ১৯৮৯ সালে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত হন অর্জন সিংহ। সারা জীবনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে তাঁকে ‘মার্শাল অব দ্য এয়ার ফোর্স’ করা হয়। বায়ুসেনায় অর্জন সিংহই একমাত্র ‘ফাইভ স্টার র‌্যাঙ্ক’ আধিকারিক। গত বছর তাঁর জন্মদিনে পানাগড়ে বায়ুসেনা ঘাঁটির নামকরণও অর্জন সিংহের নামে করা হয়।