সনিয়া গাঁধী দলের হাল ধরতেই সক্রিয় হলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতারা।

দলের নবীনদের একাংশ যখন ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বিলোপের পক্ষে মত প্রকাশ করে দলে অস্বস্তির সৃষ্টি করেছেন, তখন পি চিদম্বরম, মণিশঙ্কর আইয়ার, মনমোহন সিংহের মতো বর্ষীয়ান নেতারা আজ সরকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হলেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদে চিদম্বরমেরা সরব হলেও নবীন নেতাদের ভিন্ন মত দলকে সমস্যায় ফেলে দেয়। আজ মণিশঙ্কর যেখানে বর্তমান কাশ্মীরের অবস্থাকে প্যালেস্তাইনের সঙ্গে তুলনা করেছেন, তখন চিদম্বরমের অভিযোগ, জম্মু-কাশ্মীর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে সরকার ওই সিদ্ধান্ত নিত না।

বিজেপির পাল্টা জবাব, কংগ্রেস এখন কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদের খেলায় নেমেছে। 

৩৭০ নিয়ে কংগ্রেসের ভিতরেই মতভেদ ইতিমধ্যেই প্রকট। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, দীপেন্দ্র হুডা, মিলিন্দ দেওরার মতো নবীন কংগ্রেস নেতারা মনে করেন, ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদটি অস্থায়ী। তাই তা প্রত্যাহার করা উচিত। তাঁদের আপত্তি অনুচ্ছেদটি বিলোপের প্রক্রিয়া নিয়ে। প্রবীণ নেতারা কিন্তু বিশেষ ক্ষমতা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েই সরব। চিদম্বরমের কথায়, ‘‘জম্মু-কাশ্মীর মুসলিম অধ্যুষিত রাজ্য হওয়ায় অনুচ্ছেদটি বাতিল হয়েছে। কাশ্মীর হিন্দু অধ্যুষিত হলে এটা হত না। পেশিশক্তি প্রদর্শনের জন্যই সরকার বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।’’ মণিশঙ্করের অভিযোগ, সরকারের ওই সিদ্ধান্তের ফলে কাশ্মীর এখন প্যালেস্তাইনে পরিণত হয়েছে। কংগ্রেস নেতা জয়পাল রেড্ডির স্মরণসভায় মনমোহন আজ বলেন, ‘‘দেশ এখন গভীর সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সে কারণে সমস্ত সমমনোবাভাপন্ন লোকেদের এক হওয়া প্রয়োজন।’’ কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার প্রত্যাহার প্রসঙ্গে  প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘এর বিরুদ্ধে সকলের সরব হওয়ার সময় এসেছে।’’

পাল্টা সরব বিজেপি শিবিরও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, ‘‘কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ঘোষণা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু চিদম্বরম হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভেদের রাজনীতি করতে চাইছেন।’’ বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, কাশ্মীরকে ৩৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল জওহরলাল নেহরুর আমলে। চিদম্বরম ভুলে যাচ্ছেন, সে সময়ে কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বলবৎ করা হয়েছিল মুসলিম অধ্যুষিত রাজ্য বলেই। তখন কেন তার বিরোধিতা করা হয়নি?