তাঁর সরকারের প্রতিনিধিরা আগেই মুখ খুলেছিলেন। ভারত সরকারকে এ বার এক হাত নিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও। জানালেন, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে। এমনকি জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা চলে যাওয়ায় পরবর্তী কালে পুলওয়ামার মতো হামলা আরও হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে গত কালই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাক সরকার। মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত একতরফা ও বেআইনি আখ্যা দিয়েছে তারা। আজ প্রথমে পাক পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে নায়দিল্লির এক প্রস্ত সমালোচনা করেন ইমরান। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) নিন্দা করে বলেন, ‘‘মহম্মদ আলি জিন্নার নীতিই যে ঠিক ছিল তা আরও এক বার প্রমাণিত। আরএসএস স্বাধীনতার সময় থেকেই চেয়েছে ভারতকে অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে। যেখানে মুসলিমরা দ্বিতীয় নাগরিক হিসেবে থাকতে পারবেন শুধু। পাকিস্তান কিন্তু সব ধর্মের মানুষকে সমান অধিকার দেয়।’’ 

সেই সঙ্গেই পাক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের স্বার্থের পাশে পাক সরকার বরাবর ছিল, থাকবেও। ভারত সরকার চাইলেই এ ভাবে কাশ্মীরি মানুষদের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিতে পারে না। এই প্রসঙ্গেই ইমরান জানিয়েছেন, ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তে কাশ্মীরে হিংসা তো কমবেই না, বরং বাড়বে। গত ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় সিআরপি বাহিনীর উপরে জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইমরান হুঁশিয়ারিও দেন যে, কাশ্মীরের মাটিতে এই ধরনের হামলা আরও ঘটতে পারে। এক জন রাষ্ট্রপ্রধান কী ভাবে এমন হুঁশিয়ারি দিতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আজই আবার কাশ্মীর নিয়ে একাধিক দেশের নেতার সঙ্গে কথা হয় ইমরানের। যাঁদের মধ্যে ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। পাক বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোহাথির মহম্মদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গেই পরমাণু শক্তিধর দেশের প্রসঙ্গ আনেন ইমরান। মোহাথির তাঁকে জানিয়েছেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতির উপর তাঁরা নজর রাখছেন। তিনি ফের পাক প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সুরে আজ সুর চড়িয়েছেন পাক সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া-ও। আজ সেনা কমান্ডারদের এক শীর্ষ সম্মেলনে শুধুমাত্র কাশ্মীর নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজওয়া। তিনি বলেছেন, ‘‘কাশ্মীরিদের সাহায্যে পাক সেনা যে কোনও পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত।’’

রাষ্ট্রপুঞ্জ ইতিমধ্যেই দু’দেশকে সংযত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদায় ভারত সরকার যে কিছু পরিবর্তন আনতে চলেছে, গত সপ্তাহেই এমনটা আঁচ করেছিলেন পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। এ প্রসঙ্গে গত ১ অগস্ট রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেসকে কুরেশি চিঠিও দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘কাশ্মীরিদের বিশেষ মর্যাদায় কোপ পড়লে, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘিত হবে।’’