পেট্রল-ডিজেলের দাম কমাতে করের বোঝা কমার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হল।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে অর্থ মন্ত্রকের প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়ে দিলেন, রাজকোষ ঘাটতি ৩.৩ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় বেঁধে রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যার অর্থ, সরকার আয়-ব্যয়ের হিসেবে কোনও বদল করতে রাজি নয়।

পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ৮৫ টাকা ছুঁই-ছুঁই। ডিজেল ৭৫ টাকা ছাপিয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের আশা ছিল, উৎপাদন শুল্ক কমিয়ে সরকার সুরাহা দেবে। কিন্তু তেলে শুল্ক কমানো হবে কি না প্রশ্ন করা হলেও জেটলি আজ তার জবাব দেননি। সরকারের সামনে মুশকিল হল, তেলে শুল্ক কমালে আয় কমবে। এক টাকা শুল্ক কমালেই চলতি অর্থ বছরে রাজস্ব আয় কমবে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ অবশ্য আজও হায়দরাবাদে বলেছেন, ‘‘তেলের দাম নিয়ে কেন্দ্র ও বিজেপি চিন্তিত। খুব শীঘ্রই সমাধান হবে।’’

ঘাটতি লাগামে রাখতে হলে, খরচও কমাতে হবে। কিন্তু গত কাল বিকেলের পর আজ ফের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জেটলি জানান, ‘‘বৃদ্ধির হার বাড়াতে পরিকাঠামো খাতে খরচ জরুরি। সরকার এই খাতে খরচ কাটছাঁট করবে না।’’ লোকসভা ভোটের বছরে সামাজিক ক্ষেত্রেও খরচ কমানো মুশকিল। বাজপেয়ী জমানার অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা বলছেন, ‘‘রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্য ছুঁতে জ্বালানিতে শুল্ক কমানো যাবে না। বুঝলাম। কিন্তু তেলের এত দামের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী হবে?’’

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রাকেশ মোহনের মতে, রাজকোষ ঘাটতি বেঁধে রাখার কথা বলে একদম ঠিক পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র। টাকার দর যে ভাবে পড়ছে, তাতে এই বিশ্বাস জোগানো দরকার ছিল। জেটলির দাবি, বৈঠকে  অর্থ, রাজস্ব, ব্যয় ও বিলগ্নিকরণ বিষয়ক সচিবরা জানিয়েছেন, নোটবন্দির ফলে আয়কর থেকে আয় বেড়েছে। জিএসটি থেকে আয় থিতু হচ্ছে। বিলগ্নিকরণের লক্ষ্য ছুঁতেও সমস্যা হবে না। বাজেটের পূর্বাভাসের থেকেও বৃদ্ধির হার বেশি হবে। সব শুনে প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট।

অর্থনীতিবিদেরা অবশ্য বলছেন,  জিএসটি থেকে আয় এখনও ওঠানামা করছে। এয়ার ইন্ডিয়ার বিলগ্নিকরণ ধাক্কা খাওয়ায় বিলগ্নিকরণের লক্ষ্য ছোঁয়াও কঠিন। ফলে রাজকোষ ঘাটতি নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানিতে শুল্ক কমানো তাই আরও কঠিন।