মেয়েকে কটূক্তি করার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে খুন হতে হয়েছিল পশ্চিম দিল্লির এক ব্যবসায়ীকে। এই ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুললেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল। এ নিয়ে দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে দিল্লির মহিলা কমিশন। রাজধানীর পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে। অনেকেই মনে করছেন, ভোট মরসুমে দিল্লির আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি সামনে আনতে কেজরীর এই তৎপরতা।

দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মনিকা ভরদ্বাজ জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪৫ বছরের এক ব্যক্তি এবং তার ২০ বছরের ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক তার দুই নাবালক ছেলেও।

ঘটনার সূত্রপাত গত কাল। মোটরবাইকে চড়ে বছর সাতাশের মেয়েকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরছিলেন উত্তর দিল্লির মোতি নগরের বাসিন্দা ৫২ বছর বয়সি ওই ব্যবসায়ী। সে সময় তাঁর মেয়ের উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্য করে বছর কুড়ির একটি ছেলে এবং তার দুই ভাই। নিহতের পরিবারের এক সদস্য জানান, মেয়েকে বাড়িতে পৌঁছে ঘটনার কথা জানাতে ওই ছেলেদের বাড়ি গিয়েছিলেন সেই ব্যবসায়ী। সেখানে অভিযুক্তদের বাবা এবং ছেলেদের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। মেয়েটির কাছ থেকে ঘটনাটি শুনে ছেলেগুলির বাড়িতে যায় নিহতের ছেলে। পরে ঝগড়া আরও বাড়ে। অভিযোগ, ওই ব্যবসায়ী এবং তাঁর ছেলেকে মারধর শুরু করে অভিযুক্তেরা। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হয়েছিলেন মেয়েটির ভাইও। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

গোলমালের মধ্যেই অভিযুক্তেরা পালিয়ে যায়। নিহত ব্যবসায়ীর পরিবার সূত্রের খবর, তাদের তাড়া করেছিল মেয়েটির ভাই। হদিশ না পেয়ে ফের অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তিনি দেখেন সিঁড়ির উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তাঁর বাবা। ছুরি দিয়ে বেশ কয়েক বার আঘাত করা হয়েছে তাঁকে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এলাকার অনেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও কেউ বাঁচানোর চেষ্টা করেননি। অনেকেই মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিয়ো তুলতে ব্যস্ত ছিলেন।

গত কাল হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যবসায়ীর। ঘটনা নিয়ে কেজরীবাল টুইট করেন, ‘‘দোষীদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিক।’’ দিল্লি বিজেপির সভাপতি মনোজ তিওয়ারি টুইটারে লিখেছেন, ‘‘দুঃখজনক ঘটনা, অত্যন্ত নিন্দনীয়। মেয়ের সম্মান রক্ষার্থে বাবা প্রতিবাদ করেছিলেন। সমাজে গুন্ডামি এবং শহুরে নকশালদের জায়গা নেই। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।’’