• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিজেপিরই যাত্রাভঙ্গে মায়া

Mayawati
দিনের শেষে দেখা যাচ্ছে মায়াবতীর লাভের ঘরে শূন্য। —ফাইল চিত্র।

ধন্যবাদ জানিয়ে রাহুল গাঁধী একটি চিঠি পাঠাতে পারেন মায়াবাতীকে। এবং তাঁর পুরনো সতীর্থ অজিত জোগীকে! উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে ভোটের ফলের প্রবণতা দেখে এই রসিকতাটাই চলছে রাজনীতির লোকজনের মধ্যে। 

ছত্তীসগঢ়ে ধুমধাম করে জোট গড়েছিলেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী এবং কংগ্রেস-ছুট অজিত জোগী। মধ্যপ্রদেশে ‘একলা চলো’-র ডঙ্কা বাজিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসকে দলিতদের ‘বহেনজি’ বলেছিলেন ‘নাগনাথ’ আর ‘সাপনাথ’। স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, কোনও মতেই কংগ্রেসের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশে জোট গড়বেন না। উল্টো দিকে বিজেপি নরম-গরমে রাখছিল তাঁকে— যাতে তিনি বিরোধী জোটে না যান।

কিন্তু দিনের শেষে দেখা যাচ্ছে মায়াবতীর লাভের ঘরে শূন্য। শুধু তাই নয়, অনিচ্ছা সত্ত্বেও কংগ্রেসকে কার্যত সুবিধাই করে দিয়েছেন দলিত নেত্রী। নিজের গত বারের ভোট ব্যাঙ্ক থেকে খুইয়েছেনও বটে। রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির অঙ্ক মেলাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, এ বার স্বর নরম করে উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ সিংহ যাদবের সমাজবাদী পার্টি ও রাহুলের কংগ্রেসের মহাজোটে সামিল হতে কার্যত বাধ্য হতে পারেন মায়াবতী। অবশ্য যদি না মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে বিজেপি সরকারের চাপে থাকা ‘বহেনজি’ মুখরক্ষার অন্য কোনও রাস্তা বার করেন শেষ মুহূর্তে।         

আজ ভোট গণনা যতটা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ছত্তীসগঢ়ে জোগী এবং মায়াবতী যৌথ ভাবে পেয়েছেন ১০.৯ শতাংশ ভোট। দেখা যাচ্ছে, এই রাজ্যে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে প্রাপ্ত ভোট শতাংশের ফারাকও প্রায় ১০ শতাংশই। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই রাজ্যে আগের দু’টি বিধানসভা ভোটে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে ভোট শতাংশে এতটা ফারাক ছিল না কোনও বারই। ২০০৮ ও ২০১৩ সালে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে ফারাকটা থেকেছে মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি। অঙ্ক স্পষ্ট, কংগ্রেসের নয়, বিজেপিরই ভোট কেটেছে মায়া-জোগী জুটি!           

অথচ মনে করা হয়েছিল, জোগী যেহেতু কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা নেতা, পুরনো দলের ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসাতে সক্ষম হবেন তিনি। তার উপরে জোগী-মায়া হাত মেলানোয় কংগ্রেসের দলিত ভোট হারানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, হয়েছে উল্টোটা। মারওয়াহি-তে বিজেপির অর্চনা পোর্তেকে হারিয়েছে জোগীর দল প্রায় দ্বিগুণ ভোটে। অজিত জোগীর স্ত্রী রেণু জোহীও হারিয়েছেন বিজেপির কাশীরাম সাহুকে। মোট যে ৮টি আসনে মায়াবতী–জোগীরা জিতছেন বলে ফলের প্রবণতা দেখাচ্ছে, তার মধ্যে ৬টিই বিজেপিকে হারিয়ে। 

মধ্যপ্রদেশে সরাসরি এ ভাবে বিজেপির ক্ষতি করতে না পারলেও মায়াবতী এ রাজ্যে গত বারের ভোট শতাংশ ধরে রাখতে পারেননি। গত বার বিন্ধ্যাচল এলাকায় দলিত এলাকায় মায়াবতীর ফল আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এ পর্যন্ত যতটা গণনা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ভোট শতাংশ ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪.৯ শতাংশে এসেছে দলিত নেত্রীর। 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন