প্যারিসের উপকণ্ঠে ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল প্রকল্পের দফতরে রবিবার রাতে আচমকাই হানা দিয়েছে কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। সন্দেহ করা হচ্ছে, পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানের প্রস্তুতির সময়ে হয়তো চরবৃত্তির উদ্দেশ্য নিয়েই ওই ব্যক্তিরা সেখানে গিয়েছিল। তবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর এই ধরনের হামলা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও সরকারি স্তরে এখনও এই বিষয় নিয়ে এখনও বক্তব্য জানানো হয়নি। রবিবারের ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ফ্রান্সের পুলিশ।

রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিকে ঘিরে লোকসভা ভোটের প্রচারে নরেন্দ্র মোদী ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগের পালা চলেছে বিস্তর। এরই মধ্যে অবশ্য ফ্রান্স থেকে ৩৬টি রাফাল কেনার আগে এর রক্ষণাবেক্ষণের জ্ঞান ও এই বিমান ওড়ানো সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়া থেমে থাকেনি। প্যারিসের উপকণ্ঠে সেইন্ট ক্লাউড শহরে ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট টীম অফিস। রাফাল প্রস্তুতকারক সংস্থা দাসোর দফতরের সামনেই। সেখানে এ ব্যাপারে ব্যস্ততা থেকেই গিয়েছে। রাফাল প্রকল্পের জন্য কাজ করে চলেছে যে দল, তার নেতৃত্বে ভারতীয় বায়ুসেনার ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার এক জন অফিসার। রাফালের উৎপাদন সংক্রান্ত সময়সীমার উপর নজর রাখা, বিমানের প্রশিক্ষণের কাজে ব্যস্ত থাকে এই অফিস। সেখানেই হানা দিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

বায়ুসেনার একটি সূত্র সংবাদ মাধ্যমে দাবি করেছেন, ক্ষয়ক্ষতি কিছু হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। তিনি জানান, রাফাল সংক্রান্ত কোনও তথ্য কিংবা কোনও কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক চুরি হয়নি। তবে এই হামলার উদ্দেশ্য কী, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাফাল দফতরটিতে অর্থ রাখা হয় না। তাই বায়ুসেনা সূত্রের দাবি, তথ্যচুরির চেষ্টা করতেই হামলা হতে পারে। সরকারি সূত্রের খবর, ভারতীয় বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই বিযয়টি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নজরে এনেছে। 

২০১৬ সালে ফ্রান্স থেকে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ৫৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকার চুক্তি করেছে ভারত। তা নিয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, সেই সময়েও বায়ুসেনার তরফে এই বিমানের জন্য সওয়াল করা হয়েছে। বালাকোট অভিযানের পরে বায়ুসেনা প্রধান বি এস ধানোয়া বলেছিলেন, ভারতের হাতে রাফাল থাকলে পাক যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি আসার সাহস দেখাতো না পাকিস্তান।