অযোধ্যার বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিতে রামমন্দিরই তৈরি হবে। শনিবার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু কী ভাবে এগোবে মন্দির তৈরির কাজ, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদৌ কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়েও বাড়ছে কৌতূহল। তবে শীর্ষ আদালতের রায়ের পর যে রূপরেখা সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, মন্দির তৈরি এবং মসজিদের জন্য জমি জোগাড়, দুই ক্ষেত্রেই বড় ভূমিকা থাকছে কেন্দ্রীয় সরকারের। 

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী তিন মাসের মধ্যে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ গঠন করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। বিতর্কিত ওই জমি তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। একই সঙ্গে, অযোধ্যার কোনও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মসজিদ তৈরির উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বার করতে হবে। সেই জমি তুলে দিতে হবে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের হাতে।

বিতর্কিত ওই জমির উপর নির্মোহী আখড়ার দাবি খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তার বদলে গোটা জমিটাই তুলে দেওয়া হয়েছে অন্যতম মামলাকারী রামলালা বিরাজমানের হাতে। তবে বিতর্কিত ওই জমির উপর অধিকার থাকলেও, কেন্দ্রীয় সরকার গঠিত ট্রাস্টই যাবতীয় কাজকর্মের দেখভাল করবে। এমনকি বিতর্কিত ওই জমি সংলগ্ন গোটা ৬৭ একর জমির দেখভালের দায়িত্বও ওই ট্রাস্টের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজকর্ম কী ভাবে এগোবে, তার জন্য আলাদা করে তৈরি হবে নিয়ম কানুন।

অযোধ্যায় মন্দির-মসজিদ বিতর্ক

আরও পড়ুন: মসজিদ ধ্বংস বেআইনি ছিল, তবু জমি পেলেন রামলালা: কোন যুক্তিতে জেনে নিন​

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের রায়: অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির হবে, মসজিদ বিকল্প জায়গায়​

বিতর্কিত ওই জমির উপর নির্মোহী আখড়ার দাবি যদিও খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ১৪২ ধারার আওতায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাদের আদালত জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার গঠিত ওই ট্রাস্টে নির্মোহী আখড়ার প্রতিনিধিদের রাখা যাবে।

শীর্ষ আদালতের এই রায়কে ইতিমধ্যেই স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি, কংগ্রেস-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল। তবে অসন্তোষও ধরা পড়েছে অনেকের গলায়। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের এক সদস্য কামাল ফারুখি বলেন, ‘‘এর পরিবর্তে ১০০ একর জমি দিয়েও লাভ নেউ। আমাদের ৬৭ একর জমি কেড়ে নিয়ে এখন দান করছে? ৬৭ একরের পরিবর্তে ৫ একর দিচ্ছে।’’ তবে মুসলিম পক্ষ শীর্ষ আদালতের ওই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাবে না বলেই খবর।