কলকাতার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে চিকিৎসকদের সুরক্ষায় আইন ও নিগ্রহকারীদের কড়া শাস্তির সুপারিশ করে দেশের সমস্ত রাজ্যকে চিঠি পাঠালেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। এনআরএস-কাণ্ডের প্রতিবাদে আজও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মবিরতি পালন করেন চিকিৎসকেরা। তবে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়ে কাজে ফিরেছেন এমসের চিকিৎসকেরা। তার মধ্যেই সোমবার ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)-র ডাকা দেশব্যাপী ধর্মঘট চিন্তা বাড়িয়েছে কেন্দ্রের।

কলকাতার ঘটনার প্রভাব যে ভাবে গোটা দেশে ছড়িয়েছে, তাতে চিন্তিত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। কেন্দ্রের বক্তব্য, যে ভাবে অন্যান্য রাজ্যের হাসপাতালেও কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হচ্ছে, তা দুর্ভাগ্যজনক। তবে স্বাস্থ্যকর্তারা মানছেন, পরিস্থিতি বারুদের স্তূপ হয়ে ছিলই। কলকাতার ঘটনা তাতে অগ্নিসংযোগ করেছে মাত্র। হর্ষও বলেন, ‘‘গত কয়েক বছর ধরেই চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা বেড়েছে।’’ ছবিটি বদলাতে তাই সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে হর্ষ বর্ধন লেখেন, ‘‘চিকিৎসকদের গায়ে যাঁরা হাত দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যাতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে।’’ এ জন্য যদি কড়া আইন আনতে হয়, সে ক্ষেত্রে রাজ্যগুলিকেই পদক্ষেপ করতে অনুরোধ করেছেন হর্ষ। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০১৭-র জুলাইয়ে মন্ত্রকের সঙ্গে আইএমএ-র এক বৈঠকে চিকিৎসক নিগ্রহ রুখতে একাধিক পদক্ষেপের দাবি ওঠে। চিকিৎসক সংগঠনের দাবি নীতিগত ভাবে মেনেও নেয় কেন্দ্র। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা যে হেতু রাজ্যের বিষয়, তাই এ বিষয়ে রাজ্যগুলিকে আইন আনার পরামর্শ দিয়ে চিঠি দিয়েছিল কেন্দ্র। আজ চিঠিতে সেই বিষয়টি উল্লেখ করে হর্ষ লিখেছেন, ‘‘যে সব রাজ্যে ওই আইন নেই, তাঁরা যেন অবিলম্বে ওই আইন প্রণয়ন করে চিকিৎসক সমাজের পাশে থাকার বার্তা দেয়।’’ এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘উনি যেন দেশের দিকে তাকান। স্বাস্থ্য রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়।’’

গত ক’দিন ধরেই কলকাতার ধর্মঘটী চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়েছে গোটা দেশের চিকিৎসক সমাজ। কলকাতার ধাঁচে যে ভাবে চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ডাক সংক্রমণের মতো অন্য রাজ্যগুলিতে ছড়াতে শুরু করেছে, তাতে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তার মধ্যেই সোমবার গোটা দেশে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে আইএমএ। এক স্বাস্থ্যকর্তার কথায়, ‘‘আমরা আশা করছি, আজ, শনিবার কলকাতা থেকে কোনও সুখবর আসবে। কেন না রবিবারের মধ্যে অচলাবস্থা না কাটলে এবং সোমবার দেশব্যাপী ধর্মঘট হলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠবে।’’

শনিবারও চিকিৎসক সংগঠনের সদস্যেরা কর্মবিরতি পালন করেন। রবিবারও তাঁদের প্রতিবাদ চলবে বলে জানিয়েছে আইএমএ। এনআরএস-কাণ্ডের প্রতিবাদে আজ দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া, লেডি হার্ডিঞ্জ, সঞ্জয় গাঁধী হাসপাতাল, ডিডিইউ-র মতো ১৪টি সরকারি হাসপাতাল কার্যত বন্ধ ছিল। খোলা ছিল কেবল জরুরি পরিষেবা বিভাগগুলি। ফলে বহু মানুষকেই এ দিন বিনা চিকিৎসায় ফিরে যেতে হয়েছে। আইএমএ-র ডাকে সাড়া দিয়ে সোমবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পিজিআই, চণ্ডীগড়ও। আজও প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হন হায়দরাবাদ এবং তেলঙ্গানার একাধিক হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারেরা। অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন স্থানে মোমবাতি মিছিল করেন চিকিৎসকেরা। এমসে আজ কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন চিকিৎসকেরা। তবে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে মাথায় হেলমেট পরে রুগি দেখেন তাঁরা। আজই লন্ডন থেকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনীদের এক সংগঠনের তরফে জুনিয়র ডাক্তারদের উপরে হামলার তীব্র নিন্দা অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির দাবি করা হয়েছে।