ভীমা-কোরেগাঁওয়ের সংঘর্ষের ঘটনায় মাওবাদী যোগের অভিযোগে পাঁচ বিশিষ্ট সমাজকর্মীর গ্রেফতারি আদৌ যুক্তিযুক্ত কিনা, তা খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্র ও মহারাষ্ট্র সরকারের আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রয়োজনে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে তারা। সমাজকর্মীদের গ্রেফতারির পিছনে যে তথ্যপ্রমাণ দেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করে দেখা হবে। যদি দেখা যায়, সে সব বানানো, তা হলে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গড়ে তদন্ত হবে।

মাওবাদী যোগের অভিযোগে বিশিষ্ট তেলুগু কবি ভারাভারা রাও, আইনজীবী সুধা ভরদ্বাজ, মানবাধিকার কর্মী গৌতম নাভালাখা, সমাজকর্মী ভেরনন গঞ্জালভেস ও অরুণ ফেরেইরাকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। এর বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার, অর্থনীতিবিদ প্রভাত পট্টনায়ক-সহ কয়েকজন। তবে আজ আদালতে কেন্দ্রের বক্তব্য, প্রতিটি মামলাই সুপ্রিম কোর্টে আসবে— এটা হতে পারে না। এতে ভুল নজির সৃষ্টি হবে। কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল মণীন্দ্র সিংহ এবং মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষে তুষার মেটার যুক্তি, থাপারদের আবেদনে গুরুত্ব দিলে মনে হতে পারে, নিম্ন আদালত অভিযুক্তদের কথা শুনছে না। ফলে মামলা যে আদালতে রয়েছে, সেখানেই শোনার পক্ষে যুক্তি দেয় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার।

তবে বিচারপতিরা জানিয়ে দেন, ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা ভেবেই মামলাটি শুনছেন তাঁরা। থাপারদের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির যুক্তি, ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে খুন করতে ষড়যন্ত্র করার কথা শোনানো হচ্ছে। কিন্তু এফআইআরে তার উল্লেখই নেই।’’

সুপ্রিম কোর্ট বলে, ‘‘আমরা সব নথি খতিয়ে দেখব। দেখতে হবে অভিযোগের আদৌ কোনও ভিত্তি রয়েছে কিনা। যদি বানানো গল্প হয়, তা হলে সব বাতিল করে দেব। এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হলে, খতিয়ে দেখব।’’ পাঁচ সমাজকর্মীর গৃহবন্দি থাকার মেয়াদ আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে কোর্ট। জানিয়েছে, গ্রেফতারির বিষয়টি আগামী বুধবার খতিয়ে দেখা হবে। সেই দিনই শুনানি শেষ হবে। এ ব্যাপারে আইনজীবীদের সওয়ালের সময়ও বেধে দিয়েছে কোর্ট।

রোমিলা থাপারদের তরফে ওই পাঁচ জনের মুক্তি ও গ্রেফতারি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানানো হয়। কেন্দ্রের যুক্তি, শীর্ষ আদালত এই আবেদনে গুরুত্ব দিলে তা খুবই খারাপ ব্যাপার হবে। মহারাষ্ট্র সরকার বলে, আদালত যেন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের আবেদনে গুরুত্ব না দেয়। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বেঞ্চের মন্তব্য, ‘‘সব অপরাধের তদন্ত অভিযোগের ভিত্তিতে হয়। আমরা দেখব এ সবের আদৌ কোনও ভিত্তি রয়েছে কিনা।’’

এ দিকে, জম্মুতে সাংবাদিকরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে প্রশ্ন করেন, শহুরে নকশালদের থেকে কতটা বিপদ আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি? তাঁর জবাব, ‘‘খুবই কঠিন প্রশ্ন। জানি না কোন মাপকাঠিতে, কী ভাবে সেটা মাপা সম্ভব।’’