কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার হওয়ার পর আজ জম্মু-কাশ্মীরের আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনায় বসলেন নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা। কবে থেকে ওই কাজ শুরু হবে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও, বিরোধীদের অভিযোগ, হিন্দু অধ্যুষিত জম্মুতে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র চলে এলে ফায়দা হবে বিজেপির। তাই তড়িঘড়ি আসন পুনর্বিন্যাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাসক শিবির।

জম্মু-কাশ্মীরে এত দিন ক্ষমতার ভরকেন্দ্র ছিল কাশ্মীর। সেখানে যে দল বেশি আসনে জিতত, সে-ই ক্ষমতা দখল করত। এ বার আসন পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র কাশ্মীর থেকে জম্মুতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অমিত শাহেরা। রাজ্য পুনর্গঠন আইনে জম্মু-কাশ্মীর এখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। তবে জনসংখ্যার কারণে দিল্লির মতো সেখানেও বিধানসভা নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উপত্যকায় ভোট এ বছরের মধ্যে করা কার্যত অসম্ভব। গ্রীষ্মকাল আসতে আসতে হাতে প্রায় ছয় থেকে আট মাস সময় থাকবে। তাই একেবারে আসন পুনর্বিন্যাস সেরেই মাঠে নামতে চাইছে শাসক শিবির।

লাদাখ বেরিয়ে যাওয়ায় বতর্মানে জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার শক্তি দাঁড়িয়েছে ৮৩। এর মধ্যে জম্মুতে ৩৭টি ও কাশ্মীরে ৪৬টি আসন। বিজেপির দাবি, ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় জনসংখ্যা কমেছে। বেড়েছে জম্মু এলাকায়। তাই আসন পুনর্বিন্যাস হলে জম্মু এলাকাতেই আসন বৃদ্ধির সম্ভাবনা।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, উপত্যকার মানুষ কংগ্রেস, এনসি ও পিডিপির মতো দলগুলির উপরে আস্থা হারিয়েছে। তাই উপত্যকার প্রত্যন্ত এলাকা, এমনকি সীমান্ত লাগোয়া সংখ্যলঘু গ্রামগুলিও বিজেপির ডাকে সাড়া দিচ্ছে। যাঁরা দোটানায় রয়েছেন, তাদের দলে টানতে এগিয়ে দেওয়া হচ্ছে দলের মুসলিম নেতাদের। বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘এক দিকে আসন
পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে জম্মু এলাকায় বিধায়ক সংখ্যা বাড়ানো হবে, অন্য দিকে বিক্ষুব্ধদের নির্দল হিসাবে দাঁড় করিয়ে পিছন থেকে সমর্থন দেবে বিজেপি।’’ সব মিলিয়ে একার জোরে জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষমতা দখলই অমিত শাহের পাখির চোখ।