রাহুল গাঁধীর মন্তব্য উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রপুঞ্জে পিটিশন দিল পাকিস্তান। তা জেনেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তেড়েফুঁড়ে উঠলেন রাহুল। তা নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল বললেন, ৩৭০ সমর্থনের জন্য এর পরেও কংগ্রেসকে ‘জুতোপেটা’ করবে লোকে। 

সনিয়া গাঁধী যে দিন কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী সভাপতি হলেন, কাশ্মীর নিয়ে আলোচনায় কিছু ক্ষণের জন্য ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এসেছিলেন রাহুল। বেরিয়ে বলেছিলেন, ‘‘কাশ্মীরে খুব ভুল কিছু হচ্ছে। সেখান থেকে হিংসা, নির্যাতন ও মৃত্যুর খবর আসছে।’’ রাষ্ট্রপুঞ্জকে পাকিস্তান জানিয়েছে, ‘‘কংগ্রেসের রাহুল গাঁধীর মতো ভারতের মূলস্রোতের রাজনীতিকেরা মানছেন, কাশ্মীরে হিংসা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে রাহুল গাঁধীদের জোর করে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সব স্বাভাবিক হলে কেন তাঁদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না?’’

রাহুল টুইটে করেন, ‘‘সরকারের সঙ্গে আমার বহু মতবিরোধ আছে। কিন্তু সাফ বলতে চাই, কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। পাকিস্তান বা অন্য দেশের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। কাশ্মীরে হিংসার কারণ পাকিস্তানের প্ররোচনা। পাকিস্তানই বিশ্বে সন্ত্রাসের প্রধান হোতা।’’ কংগ্রেসের রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা বলেন, ‘‘অভিসন্ধি নিয়ে রাহুল গাঁধীর নাম টেনে আনা হয়েছে।’’

রাহুল সুর বদলানোয় পাক মন্ত্রীরা সমালোচনায় নেমেছেন। পাকিস্তানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফাওয়াদ হুসেন রাহুলের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আপনার রাজনীতির বড় সমস্যা বিভ্রান্তি। পূর্বসূরিদের মতো অবস্থানে অবিচল থাকুন। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও উদার ভাবনার প্রতীক ছিলেন তাঁরা।’’ পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ তো অক্টোবর-নভেম্বরে যুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণীও করে ফেলেছেন।

ভোটের আগে অমিত শাহ বলেছিলেন, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বলেই ওয়েনাডে দাঁড়িয়েছেন রাহুল। বিজেপি নেতা প্রকাশ জাভড়েকর আজ বলেন, ‘‘ওয়েনাডে জিতে তাঁর মানসিকতাও বদলে গিয়েছে। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করছেন রাহুল। আক্রোশ বুঝে এখন উল্টো কথা বলছেন।’’ 

রাহুল আজ ওয়েনাডে এই নিয়ে কথা বলতে চাননি। দলের মুখপাত্র সুরজেওয়ালা বলেন, ‘‘জাভড়েকর ভারসাম্য হারিয়েছেন।’’ কিন্তু জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক বলেন, ‘‘লোকসভায় তাঁর নেতা যখন রাষ্ট্রপুঞ্জের নজরদারির কথা তুলেছিলেন, তখনই এ কথা বলতে পারতেন রাহুল!’’ এর পরেই ‘বলা উচিত নয়’ বলেও রাজ্যপাল মালিক মন্তব্য করেন, ‘‘ভোট এলে বিপক্ষ বলবে কংগ্রেস ৩৭০ অনুচ্ছেদের সহমর্মী। লোকে তো কংগ্রেসকে জুতোপেটা করবে!’’