শ্রীনগরে পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির সঙ্গে আজ দেখা করতে যাচ্ছেন না দলীয় প্রতিনিধিরা। দলের মুখপাত্র ফিরদৌস টাক জানিয়েছেন, নেত্রীর সঙ্গে দলের সাক্ষাৎকার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে টুইটারে কাশ্মীরের বাগ্‌স্বাধীনতার উপরে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুম্বইয়ের আরে কলোনির গাছ কাটা বন্ধের কথা টেনে এনেছেন মেহবুবা। তার জেরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। 

গত কাল ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক এবং ওমর আবদুল্লার সঙ্গে দেখা করেন দলের জম্মুর নেতারা। ৫ অগস্ট আটক হওয়ার পরে এই প্রথম আবদুল্লাদের কয়েক ঝলক দেখতে পাওয়া গিয়েছে। আজ আটক মেহবুবার সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল জম্মুর পিডিপি নেতাদের।

কিন্তু দলীয় মুখপাত্র ফিরদৌস জানান, আজ নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন না জম্মুর নেতারা। কবে দেখা হবে তা পরে স্থির করা হবে। এই সিদ্ধান্তের কোনও কারণ উল্লেখ করেননি তিনি। তবে পিডিপি সূত্রে খবর, প্রতিনিধি দলে কারা থাকবেন তা নিয়ে দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। তার জেরেই সাক্ষাৎকার পিছিয়ে দিতে হয়েছে।

আটক মেহবুবার টুইটার হ্যান্ডল আপাতত সামলাচ্ছেন তাঁর মেয়ে ইলতিজা। আজ সেই টুইটার হ্যান্ডল থেকে মন্তব্য করা হয়, ‘‘আন্দোলনকারীরা আরে কলোনিতে গাছ কাটা থামাতে পেরেছেন দেখে ভাল লাগছে। কাশ্মীরিদের এই বাগ্‌স্বাধীনতার অধিকার থেকেই কেন বঞ্চিত করা হয়েছে সেটা চিন্তার বিষয়। ভারত সরকারের দাবি, কাশ্মীরিরা এখন অন্য ভারতীয়দের সমান মর্যাদা পেয়েছেন। আসলে তাঁদের মৌলিক অধিকারও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’’ কাশ্মীরিদের জীবনের চেয়ে আরে কলোনির গাছের মূল্য বেশি বলেও ইঙ্গিত করা হয়েছে ওই টুইটে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আরে কলোনিতে গাছ কাটা আপাতত বন্ধ হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। বিজেপি নেতা নলিন কোহলির বক্তব্য, ‘‘মেহবুবার নিজস্ব মত থাকতেই পারে। কিন্তু উনি আরে কলোনির সঙ্গে কাশ্মীরের দুর্ভাগ্যজনক তুলনা করেছেন। বোঝাতে চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে চিন্তিত নয়। কিন্তু মেহবুবার মেয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন।’’