কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর রাহুল গাঁধী এখন ‘দায়মুক্ত’। কিন্তু বিপাকে পড়েছে বিজেপি। আগে কথায় কথায় তারা যে ভাবে রাহুলকে কাঠগড়ায় তুলত, এখন সেটি হচ্ছে না। বিজেপি নেতৃত্ব বুঝেছেন, কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী সভাপতি সনিয়া গাঁধীকে চড়া সুরে আক্রমণ করে লাভ নেই। হিতে বিপরীত হতে পারে।

রাহুল সরে যাওয়ায় প্রতিদিন নিশানা করার মতো কাউকে পাচ্ছে না বিজেপি। যেমনটি হল আজ। কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহ গত কাল বলেছিলেন, ‘‘বিজেপি পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর থেকে টাকা নিচ্ছে। মুসলিমদের থেকে অন্য সম্প্রদায় বেশি গোয়েন্দাগিরি করছে।’’ জবাবে বিজেপি মাঠে নামিয়েছিল দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্রকে। রাহুল সভাপতি থাকলে সম্বিত তাঁকেই কাঠগড়ায় তুলতেন। কিন্তু দিগ্বিজয়কে কটাক্ষ করলেও তিনি বলেন, ‘‘কার কাছে অভিযোগ করব? তবু আমাদের দাবি, সনিয়া গাঁধী ক্ষমা চান।’’ তার আগে অবশ্য রাহুলকে নানা ভাবে টেনে আনার চেষ্টা করেন সম্বিত। প্রশ্ন তোলেন, ‘‘আইএসআই কাদের দিয়ে গোয়েন্দাগিরি করাচ্ছে, ভিতরের খবর না থাকলে দিগ্বিজয় সিংহ কোথা থেকে জানলেন? নরেন্দ্র মোদীকে ঘৃণা করতে করতে ভারতের বিরুদ্ধে এমন বিবৃতি দেন কেন, যাতে পাকিস্তান গর্ব বোধ করে? রাহুল গাঁধীও বিদেশে গিয়ে সঙ্ঘের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের তুলনা করেছেন।’’

আসলে দিগ্বিজয়দের এই ধরনের মন্তব্যে বিজেপির পক্ষে মেরুকরণের তাস খেলা আরও সহজ হয়। রাহুলকে সামনে রেখে কয়েক বছর ধরে এই কাজ করেছে তারা। গত কালও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের পিটিশনে রাহুলের উদ্ধৃতির উল্লেখ করে বলেন, ‘‘এতে কংগ্রেস নেতাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।’’ যদিও এক বিজেপি নেতা বলছেন, ‘‘সনিয়া গাঁধীও অতীতে ‘মওত কা সওদাগর’ বলায় বিজেপির লাভ হয়েছে। কিন্তু এখন তিনি অসুস্থ, বয়সও হয়েছে। রাহুলকে যে ভাবে আক্রমণ করা যায়, সনিয়ার ক্ষেত্রে তা খাটে না।’’

কংগ্রেসের একাংশের দাবি, এটাই রাহুলের ‘মাস্টারস্ট্রোক’। রাহুলের যে উদ্ধৃতিটি পাকিস্তান ব্যবহার করেছে, সেটি সভাপতি হিসেবে তাঁর শেষ বক্তব্য। সে রাতেই সনিয়া দলের ভার নেন। তবে দিগ্বিজয়ের এ ধরনের মন্তব্য নিয়ে কংগ্রেস অস্বস্তিতে। মধ্যপ্রদেশে কমল নাথ সরকারের মন্ত্রী উমঙ্গ সিঙ্ঘার অভিযোগ, ‘‘রাজ্য সরকার বকলমে চালাচ্ছেন দিগ্বিজয়ই।’’ চিঠি লিখে সনিয়ার কাছে নালিশও জানিয়েছেন তিনি। দলের অনেকের মতে, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার ইশারাতে দিগ্বিজয়ের বিরোধিতা করছেন ওই মন্ত্রী।