দাপটে ক্ষমতায় ফিরবে বিজেপি? নাকি কিছুটা হলেও হিসেব উল্টে দেবে কংগ্রেস?

সংশয়টা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল না। এমনকি, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় বিধানসভা ভোটের শেষে যে ক’টি বুথ ফেরত সমীক্ষা হয়েছে, সেগুলিতেও দাবি করা হয়েছিল, দুই রাজ্যেই গেরুয়া ঝড় অব্যাহত থাকবে।  যদিও হরিয়ানায় কংগ্রেস কিংবা দুষ্মন্ত চৌটালার নতুন দল দাবি করেছিল, সেই রাজ্যে খেলা ঘুরে যাবে। 

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র সিংহ হুডার পুত্র দীপেন্দ্র সপ্তাহখানেক আগেই একটি টুইট করেন, ‘‘লিখে রাখুন, মনোহরলাল খট্টরের দম্ভ চূর্ণ হবে।’’ গত রাতে তাঁর টুইট, ‘‘আবারও বলছি, খট্টরের দম্ভ চূর্ণ হবে।’’ সংশয় আরও উস্কে দিয়েছে গত রাতে এক চ্যানেলের সমীক্ষা। যেখানে দাবি করা হয়েছে, একার জোরে হরিয়ানায় সরকার গড়তে পারবে না বিজেপি। ত্রিশঙ্কু বিধানসভায় চাবিকাঠি থাকবে দুষ্মন্তের হাতে।  

দিল্লিতে কংগ্রেস নেতারা বুক ঠুকে কিছু বলতে না পারুন, হরিয়ানায় দলের মুখ ভূপেন্দ্র সিংহ হুডা কিন্তু নিশ্চিত, সরকার গড়ছেন তিনিই। দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষাতেও ইঙ্গিত তেমন। লোকসভা ভোটে দশটি আসনই নরেন্দ্র মোদীর ঝুলিতে দিয়েছিল হরিয়ানা। কিন্তু জাঠেরা অনেকদিন ধরেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী খট্টরের বিরুদ্ধে। দলিতরাও বিজেপির সঙ্গে নেই। সে কারণে কংগ্রেস জিতবে বলে আশা বাড়ছে দলে। 

বিজেপি অবশ্য বলছে, সরকার গড়তে রাজ্যের ৯০টি আসনের মধ্যে প্রয়োজন ৪৬। খুব খারাপ ফল হলেও ৫০-এর নীচে যাবে না দল। তবে আসন ৫০-এর কম হলে বুঝতে হবে ‘অতি-আত্মবিশ্বাস’-এর খেসারত দিতে হয়েছে বিজেপিকে। তবে মহারাষ্ট্রে এমন কোনও সংশয় নেই। সেখানে শিবসেনার সঙ্গে মিলে বিজেপি ২০০-র কোঠা পার করবে,  সমীক্ষায় এমনই ইঙ্গিত। সে রাজ্যে আসন ২৮৮। কংগ্রেস-এনসিপির ঘরোয়া মহলেও চর্চা, রাজ্যে আর ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস অবশ্য আজ কেদারনাথে পুজো দিয়েছেন।  

এ দিকে হরিয়ানায় কংগ্রেস সরকার গড়ার অবস্থায় এলে, তা দলের পক্ষে কতটা ‘মঙ্গল’, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে এআইসিসি চত্বরে। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে যে কোনও দলের কাছেই তা সুখবর। কিন্তু হরিয়ানায় হুডার জয়ের অর্থ দলে প্রবীণদের আরও বাড়বাড়ন্ত, যা রাহুল গাঁধীর কাছে চ্যালেঞ্জ। কারণ, রাহুল শিবিরকে দুরমুশ করেই হুডা আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।