রহস্য আরও বাড়িয়ে দিল সিবিআই। 

দেশ ছাড়ার আগে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বিজয় মাল্যর ‘দেখা হওয়া’ এবং সেই সময়ে তদন্তে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। এই আবহে সিবিআই দাবি করছে, বিজয় মাল্য দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন বলে এক বারও মনে হয়নি। সেই কারণেই লন্ডন যাওয়ার পথে মাল্যকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়নি।

২০১৫-র ১৬ অক্টোবর সিবিআই ‘লুকআউট নোটিস’ জারি করে। যাতে তাতে বিজয় মাল্য দেশ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে আটকানোর নির্দেশ ছিল। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই, ২৪ নভেম্বর তা বদলে নতুন লুকআউট নোটিস জারি করা হয়। যাতে বলা হয়, মাল্যকে কোনও বিমানবন্দর থেকে দেশ ছাড়তে দেখা গেলে সিবিআইকে শুধুমাত্র  জানালেই চলবে। তাঁকে আটকানোর কোনও প্রয়োজন নেই।

রাহুল গাঁধী আজ প্রশ্ন তুলেছেন, কার নির্দেশে সিবিআইয়ের লুকআউট বদলিয়ে মাল্যকে পালানোর পথ করে দেওয়া হয়েছিল?

সে সময়ে সিবিআই-এর ডিরেক্টর ছিলেন অনিল সিন্‌হা। তিনি এ বিষয়ে মুখ না খুললেও সিবিআই সূত্রের দাবি, ওই নতুন লুকআউট নোটিসের পরেও ডিসেম্বর মাসের ৯, ১০ ও ১১ তারিখ মাল্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেছিলেন। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন, এমন মনে হয়নি।

তা হলে প্রথমে গ্রেফতারির লুকআউট নোটিস জারি হয়েছিল কেন? সিবিআই সূত্রের ব্যাখ্যা, সিবিআই মুম্বই শাখার এক অফিসার লুকআউট নোটিসের ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে ভুল করে ‘ডিটেনশন’-এর বাক্সে ‘টিক’ দিয়ে দিয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে ২৪ নভেম্বর নতুন লুকআউট নোটিস জারির দিনই মাল্য বিদেশ থেকে ফেরেন। তার আগেই অভিবাসন দফতর থেকে সিবিআইয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মাল্যকে দেখা গেলে গ্রেফতার করা হবে কি না।

সিবিআই-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-র ২৯ জুলাই বিজয় মাল্যর বিরুদ্ধে তখনকার মতো পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করা হয়। তখনও কোনও ব্যাঙ্কের তরফে মাল্যর বিরুদ্ধে সিবিআইকে অভিযোগ জানানো হয়নি। সেই অভিযোগ আসে ২০১৬-র ২ মার্চ। সে দিনই দেশ ছাড়েন মাল্য। তার আগে প্রত্যেক বার সিবিআইকে জানিয়েই মাল্য বিদেশে গিয়েছিলেন। ২০১৫-র ডিসেম্বর, ২০১৬-র ফেব্রুয়ারিতে একাধিক বার বিদেশে গিয়েছেন। আবার ফিরেও এসেছেন। ২০১৬-র

২ মার্চ সিবিআইকে না-জানিয়েই দেশ ছাড়েন মাল্য। সেই থেকে আর ফেরেননি।