সব প্রশ্নেরই উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন কার্তি চিদম্বরম। তাই তাঁর মুখ থেকে কথা বের করতে আদালতের কাছে নার্কো অ্যানালিসিস টেস্ট-এর অনুমতি চাইল সিবিআই। শুক্রবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন দিল্লির বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক সুনীল রানা।

মঙ্গলবারই সিবিআই আদালত কার্তিকে শুক্রবার পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতে রাখার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু তাঁকে জেরা করে এখনও বিশেষ কিছুই জানা যায়নি বলে সিবিআই সূত্রের খবর। কেননা, সব প্রশ্নের উত্তরেই কার্তি একটাই কথা বলছেন, ‘আমাকে রাজনৈতিক কারণে ফাঁসানো হয়েছে’। এই পরিস্থিতিতে সত্য ঘটনা জানতে কার্তির নার্কো পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে দাবি সিবিআইয়ের।

নার্কো অ্যানালিসিসে অভিযুক্তের শরীরে সোডিয়াম পেন্টোথালের মতো রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। তার ফলে অভিযুক্ত অর্ধ-সচেতন অবস্থায় চলে যান। তখন তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তা এড়িয়ে যাওয়া বা মিথ্যা বলার ক্ষমতা তাঁর থাকে না। অতীতে আরুষি তলবার বা নিঠারি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের নার্কো পরীক্ষা হয়েছিল।

যাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে কার্তির বিরুদ্ধে মামলা চলছে, সেই ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায় এবং কার্তির চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এস ভাস্করামনকেও হেফাজতে চাইছে সিবিআই। উদ্দেশ্য, দু’জনকেই কার্তির মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা ও ইন্দ্রানীর বয়ান রেকর্ড করা। আইএনএক্স মিডিয়ার প্রাক্তন কর্ণধার ইন্দ্রাণীর অভিযোগ ছিল, বিদেশি লগ্নির ছাড়পত্র পাইয়ে দিতে কার্তিকে তাঁরা ৭ লক্ষ ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন। নিজের মেয়ে শিনা বরাকে খুনের মামলার ইন্দ্রাণী এখন মহারাষ্ট্রের বাইকুল্লা জেলে বন্দি। কার্তিকে বাইকুল্লা জেলে নিয়ে গিয়ে ইতিমধ্যেই একবার তাঁর মুখোমুখি বসানো হয়েছিল। কিন্তু সে দিন বেশি সময় মেলেনি।

ভাস্করামনকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লির এক পাঁচতারা হোটেল থেকে গ্রেফতার করে ইডি। তিনি এখন জেলে। কার্তির কালো টাকা সাদা করা ও বিদেশে পাচার করার পিছনে তিনিই মূল মাথা ছিলেন বলে অভিযোগ। গ্রেফতারের আগে জিজ্ঞাসাবাদে কার্তি যে কোনও আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নেই ভাস্করামন সব জানেন বলে এড়িয়ে গিয়েছেন। এই দু’জনকে আদালতে হাজির করানোর জন্য পরোয়ানা জারি করার আর্জি জানিয়েছে সিবিআই।