• জয়ন্ত ঘোষাল
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বেসরকারি হাসপাতালেও ডাক্তারি কলেজ চায় কেন্দ্র

stetesccope

দেশে চিকিৎসকের ঘাটতি মেটাতে এ বার বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে মেডিক্যাল কলেজ খোলার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে চায় কেন্দ্র। কলকাতায় যে বেসরকারি হাসপাতালগুলি রয়েছে, তার লাগোয়া জমিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে নিজস্ব মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করতে পারেন। সেই কলেজগুলিতে পাঁচ বছরের এমবিবিএস কোর্স চালু হবে। বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। শুধু কলকাতা নয়। গোটা দেশেই এই নীতি প্রয়োগ করার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রথম দফায় দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু প্রভৃতি শহরকে রাখা হয়েছে। পরে গুয়াহাটি, শ্রীনগর, তিরুবনন্তপুরমের মতো শহরে এই প্রকল্প ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।

দেশে মেডিক্যাল কলেজ খোলার ছাড়পত্র দেয় মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (এমসিআই)। এমসিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মেডিক্যাল কলেজ খোলার নিয়মকানুন শিথিল করার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা চলছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নড্ডা বলেন, ‘‘দেশে এখন চিকিৎসকের সংখ্যার বড় রকমের ঘাটতি রয়েছে। বহু রাজ্যে বহু গ্রামে হাসপাতাল আছে, চিকিৎসক নেই। এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন দরকার।’’ নাড্ডা বলেন, ‘‘মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের এই প্রস্তাব সব রাজ্যের বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলির কাছে রাখা হবে। বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলব।’’

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এই প্রস্তাবটিকে সমর্থন করেছেন। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আগে মেডিক্যাল কলেজগুলি ছিল সরকারি নিয়ন্ত্রণে। পরে অনেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। কিন্তু বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে পড়ার খরচ (ক্যাপিটেশন ফি) অনেক বেশি। যদি বড় বড় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের জমিতেই মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করেন, তা হলে চাহিদা ও জোগানের অর্থনীতি অনুসারে পড়ার খরচ কমে যেতে বাধ্য।’’ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘হাসপাতালে চিকিৎসক প্রয়োজন হয়। পড়ানোর জন্য শিক্ষক-চিকিৎসকও প্রয়োজন। ফলে মাছের তেলে মাছ ভাজা যাবে। তবে এ নিয়ে আরও আলোচনা করতে হবে।’’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মধ্যে ঘরোয়া আলোচনার স্তর থেকে বিষয়টিকে মন্ত্রিসভার আলোচ্যসূচিতে ঠাঁই দেওয়ার আগে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে কথা বলবেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিকিৎসক সংগঠনের বেশিরভাগ নেতাই এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন। তবে উল্টো মতও রয়েছে। প্রথমত, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল চালাতে গিয়েই হিমসিম খান। সেখানে আর্থিক ভাবে লাভজনক না হলে তাঁরা কেন কলেজ নির্মাণ করবেন। দ্বিতীয়ত, সব হাসপাতাল চত্বরে যথেষ্ট জমি নেই। কর্তৃপক্ষ জমি চাইলে সেই জমি রাজ্য সরকারকেই দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আবার জমি অধিগ্রহণ নীতির বিতর্কিত বিষয়টি এসে যাবে। তৃতীয়ত, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই শিক্ষা ব্যবসা শুরু করলে সে ক্ষেত্রেও আর্থিক বিনিয়োগের প্রশ্ন আছে। সেই আর্থিক সহায়তা আসবে কোথা থেকে! তাঁরা ব্যাঙ্ক ঋণ চাইতে পারেন। অথবা কেন্দ্রের সহায়তা চাইতে পারেন। সে ক্ষেত্রেও কেন্দ্রকে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা নিতে হবে। সে জন্য কেন্দ্র কি প্রস্তুত? চতুর্থত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য শিক্ষক প্রয়োজন। এই শিক্ষক জোগান হবে কোথা থেকে!

যদিও নড্ডা ও জেটলি জানান, এই সব প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে তাঁরা প্রস্তাবটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন। তাঁরা বলছেন, দেশে চিকিৎসকের ঘাটতি এত বেশি যে তা মেটাতে অন্য কোনও উপায় নেই।

ন্যাশনাল হেল্থ প্রোফাইল ২০১৫ রিপোর্ট অনুযায়ী, এ দেশে নথিভুক্ত চিকিৎসকের সংখ্যা ৯,৩৮,৮৬১। সেন্ট্রাল ব্যুরো অব হেল্থ ইন্টেলিজেন্স জানাচ্ছে, এ দেশে ১১,৫২৮ জন মানুষ পিছু এক জন ডাক্তার। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাপকাঠি অনুযায়ী, প্রতি হাজারে অন্তত এক জন ডাক্তার থাকা দরকার।

স্বাস্থ্য কর্তারা বলছেন, ২০০৫-এ দেশে ২৬২টি মেডিক্যাল কলেজ ছিল। ২০১৪-তে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৩৯৮। ডাক্তারের ঘাটতি মেটাতে পরের দশ বছরে আরও অন্তত ২০০ মেডিক্যাল কলেজ দরকার।

চিকিৎসক সংগঠন আইএমএ-র সেক্রেটারি জেনারেল কে কে অগ্রবাল বলেন, ‘‘আমরাও কেন্দ্রের এই প্রস্তাব সমর্থন করছি। প্রয়োজনে আমাদের সংগঠনের তরফে রাজ্যকে সব রকম সহযোগিতা করা হবে।’’

এ রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারাও কেন্দ্রের প্রস্তাবকে স্বাগত জানাচ্ছেন। দফতরের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা বাড়াতে চান। বেসরকারি হাসপাতালগুলি এগিয়ে এলে আমাদের হাত আরও শক্ত হবে। শিক্ষক-চিকিৎসক কী ভাবে জোগাড় হবে সেই নিয়ে যদিও দুশ্চিন্তা রয়েছে। তবে অবসরের বয়স বাড়িয়ে তার মীমাংসা করতে চলেছি। প্রয়োজনে সরকারি শিক্ষক-চিকিৎসকরা বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়াতে পারবেন কি না তা-ও ভাবা হবে।’’

কেন্দ্রের কাছ থেকে বেসরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল কলেজ খোলার প্রস্তাব এলে রাজ্যের বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে তাঁরা বৈঠকে বসবেন বলেও জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারা।

 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন