কোনও রাজ্যে বড়সড় বিস্ফোরণের তদন্ত যাতে সেই রাজ্যের পুলিশই করতে পারে, সে জন্য তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করছে কেন্দ্র। প্রতি রাজ্যে প্রশিক্ষিত গোয়েন্দাদের একটি দল গড়ারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, খাগড়াগড় কাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের সঠিক তদন্ত কী ভাবে হওয়া উচিত, প্রতিটি রাজ্য পুলিশের ওই বিশেষ দলটিকে সেই প্রশিক্ষণ দেবে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই আইপিএস-দের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ওই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আধুনিক ও উন্নত ধরনের ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইজ (আইইডি) সম্বন্ধে আরও তথ্য পেতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের সাহায্যও চেয়েছে ভারত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বলছে, সাধারণত দেশের যে কোনও প্রান্তে বিস্ফোরণ ঘটলে কারওর অনুমতি ছাড়াই জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ও এনএসজি ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে তদন্ত শুরু করতে পারে। খাগড়াগড়ের ক্ষেত্রেও এ ভাবেই বিস্ফোরণের দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিল এনআইএ-র দুই আধিকারিক। কিন্তু তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তদন্তের স্বার্থে রেখে না-দিয়ে ঘটনাস্থলে উদ্ধার হওয়া আইইডি ফাটিয়ে নষ্ট করে দেয় বর্ধমান পুলিশ। হারিয়ে যায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ। এমনকী কেন্দ্র আইন-শৃঙ্খলার মতো বিষয়ে রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে— সেই সময়ে এমন অভিযোগ তুলে সরব হয় শাসক তৃণমূল শিবির। পরে চাপের মুখে ওই তদন্তের ভার এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে বাধ্য  হয় রাজ্য।

কিন্তু এই ধরনের চাপান উতোরে আখেরে তদন্তই ধাক্কা খায় বলে মনে করছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা। তাই কেন্দ্র এখন চাইছে রাজ্য পুলিশই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তের কাজ শুরু করে দিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তার কথায়, ‘‘বিস্ফোরণের ঠিক পরেই ঘটনাস্থলে না পৌঁছলে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হারিয়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় দলের পৌঁছতে সময় লেগে যায়।’’ কেন্দ্র মনে করছে, এতে এক দিকে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনই রাজ্য পুলিশের সক্রিয়তার কারণে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার এক্তিয়ারে দিল্লি হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগও উঠবে না।