ষোড়শ লোকসভার মেয়াদ ফুরিয়েছে। তার পর কেটে গিয়েছে আড়াই মাসেরও বেশি সময়। এখনও দিল্লির সরকারি বাংলো ছাড়েননি বহু প্রাক্তন সাংসদ। এ বার সেই সব বাড়ি খালি করতে কড়া নির্দেশ দিল কেন্দ্র। সাত দিনের মধ্যে বাংলোগুলি খালি না করলে জল ও বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হবে বলে কেন্দ্রের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পরে টুইটারেও এ নিয়ে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে ২৩ মে। নিয়ম অনুযায়ী ২৫ মে ষোড়শ লোকসভা ভেঙে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। দ্বিতীয় এনডিএ সরকার গঠন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। ২০১৪ সালের নির্বাচনে সাংসদ হওয়া অনেকেই এ বার হেরেছেন বা ভোটে দাঁড়াননি। ফলে তাঁরা হয়ে গিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ।

নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভা ভেঙে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে প্রাক্তন সাংসদদের তাঁদের জন্য বরাদ্দ বাংলো খালি করে দেওয়ার কথা। কিন্তু এখনও প্রায় ২০০ জন প্রাক্তন সাংসদ দিল্লির অভিজাতলুটিয়েন্স এলাকায় তাঁদের জন্য বরাদ্দ সরকারি বাংলো ছাড়েননি। এ বার তাঁদের কার্যত ‘উচ্ছেদ’ করতে কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র।

সোমবার কেন্দ্রের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে বাংলোগুলি খালি করে দিতে হবে প্রাক্তন সাংসদদের। হাউজিং কমিটির চেয়ারম্যান সি আর পাটিল বলেছেন, ‘‘প্রাক্তন সাংসদদের সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিন দিন পরই বাংলোর আলো এবং জল বন্ধ করে দেওয়ার জন্য অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’ অর্থাৎ সাত দিন সময় দেওয়া হলেও প্রাক্তন সাংসদরা কার্যত সময় পাবেন তিন দিন।

এর পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইটারে লিখেছেন, ‘যখন নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হয় তখন বাংলো পেতে নতুন সাংসদরা অনেকে সমস্যার মুখে পড়েন। তবে আমি খুশি, এই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে।’ যাঁরা এই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের অভিনন্দনও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

আরও পড়ুন: কাশ্মীর নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘গ্রাউন্ড রিপোর্ট’ দিলেন ডোভাল, নিয়ন্ত্রণ তোলা নিয়েও আলোচনা

আরও পড়ুন: আফগান তাস খেলতে গিয়ে মুখ পুড়ল পাকিস্তানের, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে তোপ দাগল গনি সরকার

কিন্তু কেন হঠাৎ এত কড়া মনোভাব নিল কেন্দ্র? বিষয়টি এক দিকে যেমন অস্বস্তিকর, তেমনই সমস্যাও বটে। কেন্দ্রের একটি শীর্ষ সূত্রে খবর, প্রাক্তন সাংসদরা খালি না করায় নবনির্বাচিত সাংসদদের জন্য ওই বাংলোগুলি বরাদ্দ করা যাচ্ছে না। ফলে তাঁদের অস্থায়ী ভাবে ওয়েস্টার্ন কোর্ট এবং বেশ কিছু গেস্ট হাউসে থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, বাংলো বরাদ্দ না হওয়া পর্যন্ত সাংসদদের পাঁচতারা হোটেলে রাখাই দস্তুর। কিন্তু খরচ কমাতেই তাঁদের এই সব গেস্ট হাউসে রাখা হয়েছে।