দেশে অর্থনীতি ঝিমোচ্ছে, গাড়ি-সহ বিভিন্ন শিল্পে ঘোর সঙ্কট। এই পরিস্থিতিতে  দুধ-দই বা মাখন নয়, গোবর বা গোমূত্র নিয়ে ‘স্টার্ট আপ’ গড়লে বিশেষ সুবিধা পেতে চলেছেন উদ্যোগপতিরা। গোবর বা গোমূত্র কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবনী ব্যবসা শুরু করতে পারলে বিনিয়োগের প্রায় ৬০ শতাংশ সরকারের কাছ থেকে পাবেন লগ্নিকারীরা।

গত ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উন্নত জাতের গরু রক্ষণাবেক্ষণ, সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধিতে ওই পরিকল্পনা নেয় সরকার। প্রাথমিক ভাবে ওই প্রকল্পের জন্য ধার্য করা হয় ৫০০ কোটি টাকা। ওই আয়োগের চেয়ারম্যান করা হয় প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ বল্লভভাই কাঠারিয়াকে। সম্প্রতি গুজরাতের গান্ধীনগরে উদ্যোগপতি, পড়ুয়া, তরুণদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন বল্লভভাই। সেখানেই গরু নির্ভর ‘স্টার্ট আপে’ জোর দেন তিনি।

আয়োগ সূত্রে খবর, দুধ ও দুগ্ধজাত পদার্থ ছাড়াও গোবর ও গোমূত্রের ব্যবহারের উপরে বিশেষ ভাবে জোর দিয়েছেন চেয়ারম্যান। কাঠারিয়া বলেছেন, ‘‘কেউ গোবর বা গোমূত্র নিয়ে বিশেষ কোনও পরীক্ষা, বা স্টার্ট আপ চালু করতে চাইলে সেই ব্যক্তি বা সংস্থাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। গোবর বা গোমূত্রকে ব্যবসায়িক ভাবে ব্যবহার করা হলে ‘স্টার্ট আপের’ ৬০ শতাংশ খরচ বহন করবে সরকার।’’ শুধু তা-ই নয়, সূত্রের খবর, কামধেনু আয়োগ ও আয়ুষ মন্ত্রক গোবর ও গোমূত্রের সঙ্গে আয়ুর্বেদের বিভিন্ন ওষুধ মিলিয়ে পঞ্চগব্য প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। অন্তঃসত্ত্বাদের নাকি তা খাওয়ানো হবে মেধাবী সন্তানের জন্ম দেওয়া নিশ্চিত করতে!

নিজের স্তন ক্যানসার নিরাময়ের পিছনে গোমূত্র ছিল বলে দাবি করেছিলেন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুর। কেন্দ্রের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার চৌবের আবার দাবি, আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় ক্যানসার নিরাময়ের ওষুধ তৈরি হচ্ছে গোমূত্র দিয়ে।

বিরোধীদের বক্তব্য, এখন পর্যন্ত কোনও পরীক্ষাতেই গোমূত্রের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি। সেখানে কী ভাবে সরকারি উদ্যোগে গোমূত্র দিয়ে ক্যানসারের ওষুধ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে? যদিও অনেকেই বলছেন, কোমা থেকে ফেরাতে যদি মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করা হয়, তা হলে ক্যানসার সারাতে গোমূত্র ব্যবহার এমন কী অস্বাভাবিক ঘটনা!