টানটান চিত্রনাট্য বিজেপি-তেলুগু দেশম টানাপড়েন ঘিরে। জোট ভাঙা বা বহাল রাখা নিয়ে দু’দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যেই নানা মন্তব্য করছিলেন। কিন্তু পরস্পরের মধ্যে কথা প্রায় বন্ধই হয়ে  গিয়েছিল। শেষ মুহূর্তে কথা হল দুই শীর্ষ নেতার। বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদী এবং চন্দ্রবাবু নায়ডুর মধ্যে ফোনালাপ হল। চন্দ্রবাবু আনুষ্ঠানিক ভাবে মোদীকে জানালেন যে, তাঁর দলের দুই মন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকার থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। তার পরেই মোদীর সঙ্গে দেখা করে ইস্তফাপত্র দিয়ে এলেন অশোক গজপতি রাজু এবং ওয়াই এস চৌধরি। পরে তাঁরা জানান, মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন জোট ছাড়ছে না তেলুগু দেশম। 

সন্ধ্যা ৬টায় মোদীর সঙ্গে দেখা করে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী অশোক গজপতি রাজু এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ওয়াই এস চৌধরি যে ইস্তফা দেবেন, তা তেলুগু দেশম সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল। তবে তার কিছু ক্ষণ আগেই মোদীর সঙ্গে চন্দ্রবাবুর কথা হয়। ১০ মিনিটের ফোনালাপে চন্দ্রবাবু জানান যে, অন্ধ্রপ্রদেশকে বিশেষ মর্যাদা দিতে কেন্দ্র রাজি না হওয়ায় সরকার থেকে বেরিয়ে আসতে হচ্ছে তাঁর দলকে। তবে দুই নেতার কথোপকথন যথেষ্ট সৌজন্যমূলক ভাবেই হয়েছে বলে খবর। বিজেপি এবং টিডিপির মধ্যে যে তীব্র উষ্মা বিনিময় চলছিল গত কয়েক দিন ধরে, তার কোনও আঁচ মোদী-চন্দ্রবাবুর কথোপকথনে পড়েনি বলে জানা গিয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করে বেশ কিছু দিন ধরেই সুর চড়াচ্ছিলেন চন্দ্রবাবু নায়ডু। রাজ্য ভেঙে তেলঙ্গানা গঠিত হওয়ায় অন্ধ্র যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা পুষিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্যকে বিশেষ মর্যাদা বা ‘স্পেশাল স্টেটাস’ দিতে হবে বলে চন্দ্রবাবু নায়ডু দাবি করছিলেন।

আরও পড়ুন: এ বার কেরল, হামলা হল গাঁধীর মূর্তিতে

কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য ‘স্পেশাল স্টেটাস’ ঘোষণা করতে নারাজ। অরুণ জেটলি বুধবারও জানান যে, চতুর্দশ অর্থ কমিশনের পর থেকে ‘স্পেশাল স্টেটাস’-এর আর কোনও সংস্থান নেই। তবে ‘স্পেশাল স্টেটাস’ পাওয়া রাজ্য যে রকম আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পায়, অন্ধ্রকে ঠিক সে রকম সুবিধাই দেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জেটলি বুধবার জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: সরকার থেকে সরছেন চন্দ্রবাবু

জেটলির আশ্বাসে চিঁড়ে ভেজেনি। বুধবার রাতেই চন্দ্রবাবু জানিয়ে দেন, তাঁর দলের যে দুই সাংসদ মোদী ক্যাবিনেটে রয়েছেন, তাঁরা বৃহস্পতিবার ইস্তফা দেবেন। বৃহস্পতিবার সকালে অবশ্য বিজেপি-ই আগে চমকে দেয়। অন্ধ্রে চন্দ্রবাবুর মন্ত্রিসভা থেকে বিজেপি-র দুই প্রতিনিধি সকালেই পদত্যাগ করেন। সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট থেকে তেলুগু দেশমের প্রতিনিধিদের বেরিয়ে আসা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা।