লোয়া মৃত্যু মামলার শুনানি নিজের হাতে নিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র। সোমবার তাঁর বেঞ্চেই এই মামলার শুনানি হবে।ওই বেঞ্চে দীপক মিশ্র ছাড়া থাকছেন বিচারপতি এএম খানউইলকর এবং ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। শনিবার সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশ জারি করেছে।

এতদিন এই মামলার শুনানি চলছিল বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং বিচারপতি এম এম শান্তানাগৌদারের বেঞ্চে। তাঁর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি নিয়ে চার প্রবীণ বিচারপতিঘোর আপত্তি তোলেন।বিচারপতিদের অভিযোগ ছিল, লোয়া-সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা তুলনামূলক জুনিয়র বিচারপতিদের বেঞ্চে পাঠাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র। গত ১৩ জানুয়ারি সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগও আনেন তাঁরা। ভারতের ইতিহাসে যা নজিরবিহীন।এর পর বিদ্রোহী বিচারপতিদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু তাতেও কোনও ফল হয়নি। বিদ্রোহী বিচারপতিরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন।অবশেষেওই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেনবিচারপতি অরুণ মিশ্র।এই মামলার শেষ শুনানির দিন অরুণ মিশ্র প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে উপযুক্ত বেঞ্চে এই মামলাটি তালিকাভুক্ত করার অনুরোধও জানান।

অরুণ মিশ্র হাত তুলে নেওয়ার পরই এই মামলার শুনানি ঘিরে নতুন করে বিভ্রান্তি জন্ম নেয়। মামলার শুনানি কবে, কোন বেঞ্চে হবে— তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন মামলাকারী। শুক্রবার এই প্রশ্ন নিয়েই প্রধান বিচারপতির এজলাসে হাজির হন মামলাকারী। প্রধান বিচারপতি মামলাকারীকে আশ্বস্ত করে জানান,সোমবার রুটিন অনুয়ায়ীই এই মামলা উপযুক্ত বেঞ্চে তালিকাভুক্ত করা হবে। তবে তখনও পর্যন্ত এটা জানা যায়নি, কোন বেঞ্চে মামলার শুনানি হতে চলেছে। শনিবার সুপ্রিম কোর্ট তা খোলসা করে। লোয়া মৃত্যু মামলার শুনানির জন্য নবনির্মিত এই বেঞ্চে পূর্বের দুই বিচারপতির কাউকেই রাখা হয়নি।

আরও পড়ুন :কেন্দ্রেই নানা মত চিন নিয়ে, প্রশ্ন অনেক

আরও পড়ুন: ‘গাড়িতে রক্তের দাগ লাগবে!’ আহতদের নিল না পুলিশ, মৃত্যু পথেই

সিবিআই বিচারক ব্রিজগোপাল হরকিষণ লোয়ার মৃত্যু হয় ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর। সে সময় তিনি ২০০৫ সালে গুজরাত পুলিশের বিরুদ্ধে সাজানো সংঘর্ষে সোহরাবুদ্দিন শেখকে হত্যার অভিযোগের মামলা শুনছিলেন। যে মামলার প্রধান অভিযুক্ত অমিত শাহ।এমন একটা সময়ে বিচারক লোয়ার আকস্মিক মৃত্যু হয়। বিচারক লোয়ার মৃত্যু মামলার শুনানি ঘিরেই এত কাণ্ড।